পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা আনুষ্ঠানিক ভাবে ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্যপাল টিএন রবির দফতর। বৃহস্পতিবার লোক ভবনের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারা (বি) উপধারা অনুযায়ী এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সপ্তদশ বিধানসভার আর অস্তিত্ব রইল না।

প্রশাসনিক মহলের মতে, বিধানসভা ভেঙে যাওয়ার অর্থ মন্ত্রিসভারও অস্তিত্ব শেষ হওয়া। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিক ভাবে ইস্তফা দেননি। রাজ্যপালও তাঁকে বরখাস্ত করেননি কিংবা নতুন সরকার শপথ নেওয়া পর্যন্ত ‘তদারকি মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেননি। ফলে শুক্রবার এবং শনিবার নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগের সময়টুকুতে রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে সাংবিধানিক জটিলতা।

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এটি এক ধরনের ‘অভূতপূর্ব পরিস্থিতি’। তাঁদের ব্যাখ্যা, বিধানসভা ভেঙে গেলেও সঙ্গে সঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন বাধ্যতামূলক নয়। যেহেতু রাজ্যের শাসন রাজ্যপালের নামে পরিচালিত হয় এবং মন্ত্রিসভা তাঁর প্রতিনিধিত্বমূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তাই বর্তমানে কোনও মন্ত্রিসভা না থাকায় রাজ্যপাল নিজেই সরাসরি প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। যদিও চাইলে অল্প সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতির শাসনের সুপারিশও করা যেত, তবে আপাতত সে পথে হাঁটছেন না রাজ্যপাল বলেই সূত্রের খবর।

লোক ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিজেপিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন রাজ্যপাল। বিজেপির তরফে বিধায়কদের সমর্থনের চিঠি জমা দেওয়ার পর শনিবার নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সাংবিধানিক পর্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

উল্লেখ্য, ভোটের ফল প্রকাশের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আমরা হারিনি, ভোট লুট হয়েছে। ইস্তফা কেন দেব?” তিনি সরকারি ভাবে পদত্যাগ না করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *