দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটে ঝুলে থাকা নিয়োগ জট কাটাতে তৎপর রাজ্যের নবনিযুক্ত বিজেপি সরকার! শুক্রবারই বঙ্গে এসে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করেন অমিত শাহ। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেদিনই ২০১৬ সালের বিতর্কিত শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী নিয়োগ পরীক্ষার ওএমআর শিট ওয়েবসাইটে আপলোড করল স্কুল সার্ভিস কমিশন। শুক্রবারই এসএসসির তরফে এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। কিন্তু শনিবার, শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিতেই এহেন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আসে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই সিবিআই সূত্রে প্রাপ্ত ওএমআর শিটগুলি আপলোড করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সিবিআই-এর তরফ থেকে যে হার্ড ডিস্ক পাওয়া গিয়েছে, তার থেকেই ২০১৬-র পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিট প্রকাশ করা হয়েছে। নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি লেভেল এসএলএসটি (এটি)র ওএমআর শিটগুলি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞাপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬ তৃতীয় আরএলএসটি (এনটি)র গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মীদের ওএমআর শিটও দ্রুত আপলোড করা হবে।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, সিবিআই-এর তরফ থেকে যে হার্ড ডিস্ক পাওয়া গিয়েছে, তার থেকেই ২০১৬-র পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিট প্রকাশ করা হয়েছে। নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি লেভেল এসএলএসটি (এটি)র ওএমআর শিটগুলি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞাপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬ তৃতীয় আরএলএসটি (এনটি)র গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মীদের ওএমআর শিটও দ্রুত আপলোড করা হবে।
পূর্বতন রাজ্য সরকারের নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন আন্দোলন করা শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চর সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, “ওএমআর প্রকাশের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যোগ্য শিক্ষক ওশিক্ষাকর্মীদের সবাইকে তাঁদের পুরনো জায়গায় সসম্মানে পুনর্বহাল করুক। একজন নিরপরাধও যেন শাস্তি না পায় তা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।”
২০১৬ সালে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল হওয়ার জেরে চাকরিহারা হন ২৬ হাজারেরও বেশি শিক্ষক ও গ্রুপ সি-গ্রুপ ডি-র শিক্ষাকর্মীরা। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল হওয়ার পর ওএমআর শিট প্রকাশ করার দাবি তুলছিল চাকরিপ্রার্থী এবং বিভিন্ন মঞ্চ। অভিযোগ ছিল, অনেক ক্ষেত্রে ওএমআর শিট নষ্ট করে ফেলা হয়েছে বা কারচুপি করা হয়েছে। ২০২৪ সালেই হাইকোর্ট ২২ লক্ষ ওএমআর প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছিল। যদিও সেই নির্দেশ মানেনি কমিশন। রাজ্যে নতুন সরকার আসতে না আসতেই হাইকোর্টের সেই নির্দেশই এসএসসি এদিন মেনে নিল বলে মনে করছেন এসএসসি নন টিচিং স্টাফ ঐক্য মঞ্চর সদস্য অমিত মণ্ডল।
গত বছর চাকরিহারাদের মধ্যে ১৯ হাজার যোগ্যকে চিহ্নিত করে হাইকোর্টের নির্দেশে নতুন করে স্বচ্ছভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে এসএসসি। নতুন করে পরীক্ষাও নেওয়া হয়। নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশের লিখিত পরীক্ষার ফলও বেরতে দেখা যায় ২০১৬-র যোগ্যদের অনেকেই পাস করেননি। তাতে ক্ষোভ ও জটিলতা আরও বাড়ে। এদিনের নির্দেশিকায় স্পষ্ট হল দ্বিতীয় লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের কোনো গুরুত্ব রইল না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
