
<p>বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী, যিনি ‘বাগেশ্বর বাবা’ নামেই বেশি পরিচিত। তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য ঘিরে যেমন বিপুল জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে, তেমনই তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। এরই মধ্যে সামনে এসেছে একটি প্রশ্ন—কত সম্পত্তির মালিক ধীরেন্দ্র?</p><img><p>দুর্গাপুজোর আগে বাংলায় নতুন করে শুরু হয়েছে আমিষ বনাম নিরামিষ বিতর্ক। বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত Dhirendra Krishna Shastri ওরফে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। হাওড়ার লিলুয়ায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তিনি দুর্গাপুজোর মণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাবার বিক্রি না করার আবেদন জানান।</p><img><p>নবরাত্রির সময়ে আমিষ খাবার বিক্রি বা খাওয়ার সঙ্গে যুক্ত জায়গা ও ব্যক্তিদের বয়কটের কথাও বলেন তিনি। তাঁর মন্তব্যের পরেই বাংলার খাদ্যাভ্যাস, ধর্মীয় রীতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।</p><img><p>ইন্টারনেটে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে কোটি কোটি টাকার নানা দাবি রয়েছে। কিছু ওয়েবসাইট ও মিডিয়া রিপোর্টে তাঁর মোট সম্পত্তির মূল্য প্রায় ১৯ থেকে ২০ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। কোথাও আবার এর চেয়েও বেশি অঙ্কের উল্লেখ পাওয়া যায়।</p><img><p>কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই দাবিগুলির কোনওটিকেই তাঁর নির্ভরযোগ্য audited financial statement বা সরকারি সম্পত্তির হিসাব দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না।</p><img><p>১৯–২০ কোটি টাকার দাবি কতটা সত্য?</p><p>ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর ‘নেট ওয়ার্থ’ নিয়ে যে ১৯–২০ কোটি টাকার অঙ্কটি বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করে, সেটিকে মূলত media estimate হিসেবেই দেখা উচিত। অর্থাৎ, এই অঙ্ক তাঁর নিশ্চিত ব্যক্তিগত সম্পত্তির সরকারি হিসাব নয়।</p><img><p>কোনও ব্যক্তির প্রকৃত সম্পত্তি নির্ধারণ করতে হলে তাঁর নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক আয়, সংস্থার আর্থিক হিসাব, কর সংক্রান্ত তথ্য-সহ একাধিক নির্ভরযোগ্য নথি প্রয়োজন। ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর ক্ষেত্রে এমন পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ্য হিসাব না থাকায় নির্দিষ্ট অঙ্ককে চূড়ান্ত বলে দাবি করা ঠিক নয়।</p><img><p>কোথা থেকে আসে তাঁর বিপুল আয়ের আলোচনা?</p><p>ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর জনপ্রিয়তার অন্যতম বড় কারণ তাঁর ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং ‘দিব্য দরবার’। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মানুষ জমায়েত হন। বাগেশ্বর ধামকে কেন্দ্র করেও তৈরি হয়েছে বড় পরিসরের ধর্মীয় পরিকাঠামো।</p><img><p>২০২৩ সালে India Today-এর একটি প্রতিবেদনে বাগেশ্বর ধামকে ঘিরে ভক্তদের আনাগোনা, দর্শনের জন্য টোকেন ব্যবস্থা এবং স্থানীয় এলাকায় তৈরি হওয়া বিভিন্ন পরিষেবার কথা উঠে এসেছিল। ফলে বাগেশ্বর ধামকে ঘিরে আর্থিক লেনদেন ও আয়ের পরিমাণ নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।</p><img><p>তবে বাগেশ্বর ধামকে ঘিরে কোনও আর্থিক কার্যকলাপ থাকলেই তার পুরোটাকে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলা যায় না। ব্যক্তি, মন্দির বা সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক হিসাব আলাদা বিষয়।</p><img><p>জনপ্রিয়তা যত বেড়েছে, সম্পত্তি নিয়ে জল্পনাও তত</p><p>ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর জাতীয় পরিচিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, আয়, গাড়ি, বাড়ি এবং জীবনযাপন নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা দাবি ছড়িয়েছে। এর মধ্যে কিছু দাবি যাচাইযোগ্য নথি ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে।</p><img><p>তাই বর্তমানে সবচেয়ে নিরাপদ তথ্য হল—ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর প্রকৃত ব্যক্তিগত নেট ওয়ার্থ প্রকাশ্যে নিশ্চিত নয়। ১৯–২০ কোটি টাকার যে অঙ্কটি বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ করা হয়, সেটি নিশ্চিত সরকারি হিসাব নয়, বরং বিভিন্ন সূত্রের আনুমানিক দাবি।</p><img><p>অর্থাৎ, বাগেশ্বর বাবার জনপ্রিয়তা ও বিপুল জনসমাগম নিয়ে প্রশ্ন কম থাকলেও ঠিক কত কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক তিনি—তার নির্ভরযোগ্য উত্তর এখনও প্রকাশ্যে নেই।</p>
Source link
