নতুন পাতা গজিয়েই ঝলসে হঠাৎ নিমগাছের মৃত্যু! কি কারণে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। একের পর এক গাছের মৃত্যুতে সবুজ হারানোর আশঙ্কা স্থানীয়দের। বোলপুর মহকুমা জুড়েই নিমগাছে রহস্যময় অসুখ। বোলপুর, নানুর এবং লাভপুর যাওয়ার রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি নিমগাছ যেন শুকোচ্ছে। কারণ সকলের অজানা। তবে হঠাৎ করেই নিমগাছের পাতা শুকিয়ে যাওয়া ও ডাল ভেঙে পড়ার ঘটনা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এখনও পর্যন্ত বিশেষজ্ঞরা নির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করতে পারেননি।

তবে পরিবেশবিদদের দাবি, বর্তমানে নিম ডাইব্যাক নামক ছত্রাক জনিত রোগ এবং ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রচুর পরিমাণে নিম গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে অথবা মারা যাচ্ছে। একপ্রকার নিম গাছের মড়ক শুরু হয়েছে। তবে নিমের মতো তেতো সাধের গাছে কিভাবে এই রোগের আক্রমণ হলো তা নিয়েই উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। নানুরের বাসিন্দা সইফুদ্দিন খান ও বাদল দাস বলেন, “বাড়ির আশেপাশে ছাড়াও রাস্তার ধারে হাজার হাজার নিম গাছ মারা যাচ্ছে। এবছর আর গাছের নিমের কচি পাতা দেখা গেল না।”

আরও পড়ুন:

কৃষি বিজ্ঞানীদের দাবি, দূষণের কারণে গত কয়েক বছরে নিম পাতার মধ্যে থাকা জীবাণুনাশক এবং ছত্রাকের উপস্থিতি বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়েছে। ফলে নিম গাছের মধ্যে রোগ পোকার আক্রমণের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠছে।” বোলপুর মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বোলপুরের বাসিন্দা সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় ও ডলি দাস বলেন, “শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে শ্রীনিকেতন থেকে সিউড়ি যাওয়ার রাস্তার ধারে বহু নিমগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। নতুন পাতা গজালেও গাছগুলো আদৌ বাঁচবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উদ্বিগ্ন সকলেই।” বোলপুরের উদ্ভিদবিদ্যা শিক্ষক সৌভিক ঘোষ বলেন, “অতীতে নারকেল গাছে ‘ক্যাডাং-ক্যাডাং’ নামে একটি ভাইরাসের কারণে অনুরূপ পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। নিমগাছের ক্ষেত্রেও তেমন কোনও সংক্রমণ ঘটতে পারে। তবে আক্রান্ত ডালপালা ছেঁটে ফেললে গাছ নতুন করে বাঁচতে পারে তবে এত সংখ্যক গাছের পরিচর্যা করবেন কারা।”

পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ ও দূষণের চাপ গাছের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। শুধু নিমগাছ নয়, ভবিষ্যতে আরও বহু প্রজাতির গাছ এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে চলেছে। অবিলম্বে বৈজ্ঞানিকভাবে কারণ নির্ণয় করে পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।”নানুরের উপ-কৃষি অধিকর্তা সুব্রত সাহা বলেন, “বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। যদিও এটি সরাসরি কৃষি দফতরের আওতাধীন নয়। তবুও সবুজায়নের স্বার্থে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে কারণ খতিয়ে দেখা হবে।” বন দফতরের বোলপুরের আধিকারিক জ্যোতিষ বর্মন বলেন, “নিম গাছের রোগ নির্ণয়ের জন্য আলাদা পরিকাঠামো না থাকলেও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।”

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *