আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তন এখন শুধু পরিবেশের সমস্যা নয়, তা সরাসরি প্রভাব ফেলছে মানুষের স্বাস্থ্যের উপরও। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, তাপপ্রবাহ, প্রবল ঠান্ডা এবং ভারী বৃষ্টির মতো চরম আবহাওয়ার কারণে মধ্যবয়সী ও বয়স্কদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। চিনের ১৫৭টি শহরে পরিচালিত এই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন জিয়ামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডক্টর ইয়া ফাং।
গবেষণায় দেখা গেছে, তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে হৃদযন্ত্রের উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে। বিশেষত যখন তাপমাত্রা ১০০.৪ ডিগ্রি ফ্যারেনহাইটের বেশি হয়, তখন হৃদরোগের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে প্রায় ১১২৮ জন আবহাওয়ার এই অস্থিরতার কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রবল গরমে শরীরের তাপমাত্রা ও রক্ত সঞ্চালনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, যার ফলে হৃদযন্ত্রের উপর চাপ বাড়ে।

অন্যদিকে, ঠান্ডা আবহাওয়াও কম বিপজ্জনক নয়। গবেষণায় জানা গেছে, প্রতিটি অতিরিক্ত ঠান্ডার দিনে হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ০.১১% করে বাড়ে। একইভাবে, ভারী বৃষ্টির ক্ষেত্রেও ঝুঁকি বাড়ে প্রায় ১.৬২%। আচমকা আবহাওয়ার পরিবর্তনে বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার ওঠানামা শরীরের উপর চাপ সৃষ্টি করে, যা হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ায়।
আরও পড়ুন: প্রতিদিন কফি খেলে কমতে পারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি! গবেষণায় চমকপ্রদ দাবি
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, প্রবল গরমে বয়স্ক ও ধূমপায়ীরা বেশি আক্রান্ত হন। আবার ঠান্ডায় স্থূলকায় ব্যক্তিদের ঝুঁকি বেশি। অন্যদিকে, ভারী বৃষ্টির সময় গ্রামীণ এলাকার মানুষ, মধ্যবয়সী ও অবিবাহিতদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। ফলে বিশেষজ্ঞরা আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
এই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে ‘American Journal of Preventive Medicine’-এ। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে, তাই এখন থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি।
