মার্কিন আপত্তি উড়িয়ে ফের রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এই ঘটনায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপর তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গোটা ঘটনায় তিনি এতটাই চটেছেন, যে ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট বদলে ফেলার হুঁশিয়ারি পর্যন্ত দিয়ে দিলেন।

শনিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ইউক্রেনের এখন নতুন প্রেসিডেন্ট দরকার”। ট্রাম্পের অভিযোগ, তিনি বারবার জেলেনস্কিকে বলেছিলেন, “যা করার করো, কিন্তু তেল শোধনাগারে কোনওভাবেই হামলা চালিও না।” কারণ, হামলার জেরে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। আমেরিকা নিজেও এর ফল ভুগছে। এমনকী পরিস্থিতি সামাল দিতে রাশিয়ার থেকে ডিজেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই রুশ তেল শোধনাগারে হামলায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বদলের হুঁশিয়ারির পাশাপাশি জেলেনস্কিকে কড়া সুরে তিনি বলেন, ”আপনি আপনার দেশের ৩০ শতাংশ হারিয়েছেন। ১০ লক্ষের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই যুদ্ধ শুরু হওয়াই উচিত ছিল না। জেলেনস্কি বহুবার চুক্তি করতে পারত, কিন্তু করেনি।”

আরও পড়ুন:

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়া ৩ লক্ষ টন ডিজেল আমেরিকা ও বিশ্ববাজারে সরবরাহ করবে। নভেম্বরে আরও ৫ লক্ষ টন। বিনিময়ে রুশ ডিজেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হন জেলেনস্কি। রাশিয়ার সঙ্গে এহেন চুক্তির জেরে ক্ষুব্ধ হন জেলেনস্কি। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য আমাদের প্রতিনিধি দল এখন ফ্লোরিডায়। মার্কিন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে সে দেশের প্রসিডেন্ট ক্রেমলিনের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। তিনি সেই নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন, যিনি এই যুদ্ধ এবং এই আগ্রাসনের মূল হোতা।” তিনি আরও বলেন, “এই চুক্তির অর্থ পুতিনের হাত শক্ত করা। যুদ্ধ এগিয়ে নিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করা। পুতিনকে দেওয়া উপহার সভ্য বিশ্বে শান্তি বা কল্যাণ আনবে না।”

তিনি বলেন, ইউক্রেন রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে রাজি, যদি রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধ করে। কিন্তু ট্রাম্প একতরফা বন্ধ চান। অর্থাৎ জেলেনস্কি স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন কোনওভাবেই হামলা বন্ধ হবে না। এমনকি গত ৮ অক্টোবর এবং ৯ অক্টোবর রাতে রুশ তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এই ডামাডোলের মাঝে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলকে হুমকি দিয়েছেন হামলা না থামালে আমেরিকা গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করে দেবে। এবার সরাসরি ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট বদলে দেওয়ার হুমকি দিলেন খোদ ট্রাম্প।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *