কার্টুন মামলায় রক্ষাকবচ পেলেন শ্রীলেখা মিত্র।Image Credit: TV9 বাংলা
কলকাতা: প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত কার্টুন কাণ্ডে স্বস্তি পেলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র ( Srilekha Mitra)। আপাতত কোনও মামলাতেই অভিনেত্রীকে গ্রেফতার করতে পারবে না পুলিশ। আজ এই নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
শ্রীলেখার বিরুদ্ধে অভিযোগ?
ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকে সমর্থন করে, গত জুলাই মাসে কলকাতায় মিছিলে হাঁটেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। তাঁর হাতে দেখা যায় একটি পোস্টার, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি বিকৃত ও কুরুচিকর কার্টুন আঁকা ছিল। এই নিয়েই তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। তীব্র প্রতিবাদ করে বিজেপি। দলের নেত্রী তথা মুখপাত্র কেয়া ঘোষ আনন্দপুর ও বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর দায়ের করেন শ্রীলেখার বিরুদ্ধে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ৩৫২, ৩৫৩(২) এবং ৩৫৬(৩) ধারায় কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি এফআইআর (FIR) রুজু করা হয়।
কী বললেন বিচারপতি?
এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, আপাতত গ্রেফতার করা যাবে না শ্রীলেখা মিত্রকে। তদন্তে সহযোগিতা করার শর্তে আগামী ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তবে মামলা খারিজ করা হয়নি। বিচারপতির বক্তব্য, ভিন্ন ধর্ম ও ভিন্ন জাতির প্রতি কোনও কুৎসা করলে, সেখানে ক্রিমিনাল আইনের ধারা যুক্ত করার সুযোগ আছে।
রক্ষাকবচ পেলেও অভিনেত্রীকে এ দিন সতর্ক করে বিচারপতি বলেন, “কেন একজন সুস্থ নাগরিক এমন একটা ছবি পোস্ট করবেন? সেই ছবি কার্টুন বা অন্য যাই হোক। ডিস্ট্রেস্ফুল।”
বিচারপতির মন্তব্য, তিনি (শ্রীলেখা) হাতে কদর্য ফেস্টুন নিয়ে মিছিলে হাঁটেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের সাজার মেয়াদ যেহেতু সাত বছর, তাই তিনি তদন্তে সহযোগিতা করলে তাঁকে রক্ষাকবচ দিতে হবে।
শ্রীলেখা মিত্রের হয়ে মামলা লড়ছেন আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “শ্রীলেখা মিত্র সিজেপি-র আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য একটি কার্টুন আঁকা বোর্ড হাতে নিয়ে মিছিলে হাঁটেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগ দায়ের হয়। এই এফআইআর খারিজের আবেদন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আনন্দপুর থানার তলবে তিনি (শ্রীলেখা) হাজিরা দিয়েছেন।”
রাজ্যের তরফে বলা হয়, “রুচিহীন ছবি আপলোড করেছেন শ্রীলেখা। তাতে উস্কানি আছে।” পাল্টা জবাবে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “রুচিহীন যদি হয়, সেটাও ক্রাইম নয়।”
হাইকোর্ট এ দিন জানায়, শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে দায়ের সব মামলা একসঙ্গে করে তদন্ত করতে হবে। তদন্ত চলবে আনন্দপুর থানার মামলার সঙ্গে যুক্ত করে। তিনি তদন্তে সহযোগিতা করলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। মামলায় তলবের জন্য ৪৮ ঘণ্টা আগে তাঁকে নোটিস দিতে হবে। তিনি সহযোগিতা না করলে পুলিশ হাইকোর্টে জানাবে। পরবর্তী শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট দিতে হবে আদালতে।
আপাতত ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত রক্ষাকবচ বজায় থাকবে শ্রীলেখার। আগামী ১৪ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি।
