পুলিশের বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছেন সজল ঘোষImage Credit: TV9 Bangla

কলকাতা: থিম ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছিল আলোচনা। তারপর সময় যত গড়িয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো ঘিরে টানাপোড়েন বেড়েছে। পুলিশ একের পর এক চিঠি পাঠিয়েছে পুজো কমিটিকে। আর সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা সজল ঘোষ পুলিশের বিরুদ্ধে অসন্তোষ উগরে দিয়েছেন। বিজেপি কাউন্সিলর সজল একাধিকবার তাঁর পুজো বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শেষপর্যন্ত তা অবশ্য হয়নি। ভিড় উপচে পড়েছিল এই পুজো মণ্ডপে। শুক্রবার একাদশীতেও সেই ভিড় দেখা গিয়েছে। এদিন আবারও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ তুলে পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হলেন সজল। ‘বাংলার অসুরদের বিনাশ’-এর জন্য আগামিকাল সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের নিরঞ্জন যাত্রায় যোগদান করতে সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে দেখে নেওয়া যাক, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো ঘিরে কী কী হয়েছে।

সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের থিম-

গত ১৫ জুন সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজোর থিম ঘোষণা করেন সজল ঘোষ। চলতি বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর হামলা চালিয়ে ২৬ জনকে হত্যা করেছিল জঙ্গিরা। ১৫ দিন পর ভারতীয় সেনা পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গিঘাঁটিতে আঘাত হানে। অপারেশন সিঁদুরে শতাধিক জঙ্গিকে নিকেশ করে ভারতীয় সেনা। পহেলগাঁও হামলা ও অপারেশন সিঁদুরকে এবার থিম করে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার।

পুলিশের চিঠি-

এবার ছিল সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের ৯০ তম বর্ষ। প্রতি বছরই ভিড় উপচে পড়ে এই পুজো মণ্ডপে। এবারও যে দর্শকদের উৎসাহ দেখা যাবে, থিম ঘোষণার পর থেকেই তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তারপরই পুলিশের তরফে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের নিরাপত্তা নিয়ে একের পর এক বিষয় জানতে চাওয়া হয়। পরপর চারটি চিঠি পুজো কমিটিকে দেয় কলকাতা পুলিশ। যা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপি কাউন্সিলর সজল। কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা অবশ্য জানিয়ে দেন, কলকাতা পুলিশের কাছে দর্শকদের সুরক্ষা সবার আগে। সেজন্য যা পদক্ষেপ করার, সেটাই করা হচ্ছে।

পঞ্চমীতে পুজো বন্ধের হুঁশিয়ারি সজলের-

সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে তিন মিনিটের AI ভিডিয়ো চালানো হয়েছে। যেখানে AI-র মাধ্যমে পহেলগাঁও হামলা ও অপারেশন সিঁদুরের ভিডিয়ো তুলে ধরা হয়েছে। আর তা দেখতেই ভিড় উপচে পড়ে। পঞ্চমীর বিকেলে সজল বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুরের’ লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের দায়িত্বে থাকা রাজস্থানে একে প্রোজেক্টিংকে নোটিস পাঠিয়েছে মুচিপাড়া থানার পুলিশ। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘এরকম চলতে থাকলে পুলিশের সঙ্গে ঝগড়া-মারপিট-আন্দোলন করে পুজো চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আর এই ঘটনা প্রথম নয়, প্রতি বছরের। আমরা তাদের বারবার বলেছি যে আপনারা একটি চিঠি দিয়ে দিন। আমরা পুজো বন্ধ করে দেব।”

রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ-

তাঁদের পুজো মণ্ডপে আসার পথে শিয়ালদহের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড করে রাস্তা আটকে দিয়েছে। এই অভিযোগ তুলেও সরব হন সজল। শিয়ালদহের সামনে দর্শকদের ব্যারিকেড ভাঙার ভিডিয়ো দেখান। তিনি বলেন, “সরকার বিরোধী অভিযান চালালে যে বিরাট আকারের ব্যারিকেড বসানো হয়, ঠিক তেমনই ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। ৪০ ফুটের রাস্তাকে গার্ডরেল দিয়ে বন্ধ করে ১৫ ফুটের রাস্তা দিয়ে গরু-গাধার মতো হাঁটাচ্ছে। যেখানে ৭০০ মিটার হাঁটলে মাঠে পৌঁছে যাওয়া যায়। সেখানে হাঁটতে হচ্ছে তিন থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার।” পুলিশের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগও তোলেন তিনি।

বারবার পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ দাগায় সজলকে পাল্টা আক্রমণ করে তৃণমূলও। তাদের বক্তব্য, রাজ্যের মধ্যে শুধু সজল ঘোষের পুজোয় সমস্যা হচ্ছে। তবে সব ‘অসন্তোষ’-র শেষেও পুজোয় ভিড় উপচে পড়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে। একাদশীতে সেই ছবি দেখা গিয়েছে। এদিন আবার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ এবং বিজেপি নেতা তাপস রায়ের পাশে দেখা যায় তৃণমূল মুখপাত্র সমীর চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি বলেন, “আন্দোলন হবে। রাজনীতি হবে। কিন্তু পুজোর মঞ্চে কখনও আন্দোলন বা রাজনীতিকে টেনে আনা উচিত নয়। রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়। পুজো আমি এখানে ছোট থেকেই দেখতে আসি। প্রদীপ ঘোষ যখন করতেন তখন থেকে দেখতে আসি। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *