দ্রুত রোগা হওয়ার ইচ্ছা আজকাল অনেকেরই। ওজন কমাতে ডায়েট ও শরীরচর্চার পাশাপাশি অনেকে ওষুধের কথাও ভাবেন। বিশেষ করে দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় নিজের ইচ্ছায় ওজন কমানোর ওষুধ শুরু করার প্রবণতাও কম নয়। কিন্তু মেদ ঝরানোর এই সহজ রাস্তা সবসময় নিরাপদ নয়। শরীরের ক্ষুধা, হজম বা বিপাকক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে কাজ করা এই ধরনের ওষুধে দেখা দিতে পারে একাধিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কিছু সমস্যা সাময়িক হলেও কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা গুরুতরও হতে পারে।

পেটের গোলমালই সবচেয়ে আগে

ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহারের পর সবচেয়ে বেশি দেখা দিতে পারে হজমের সমস্যা। বমি-বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস, পেট ফাঁপা, বদহজম বা পেটে অস্বস্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কারও ক্ষেত্রে খাবার হজমের স্বাভাবিক গতি ধীর হয়ে যাওয়ার কারণেও সমস্যা বাড়তে পারে।

– বিজ্ঞাপন –

বারবার বমি-ডায়রিয়ায় শরীরে জলের ঘাটতি

বমি বা ডায়রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হলে শরীর থেকে অতিরিক্ত জল ও প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যেতে পারে। তৈরি হতে পারে ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা। দুর্বল লাগা, মাথা ঘোরা, অত্যধিক তৃষ্ণা বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা থেকে ঘুমের সমস্যাও

কিছু ক্ষেত্রে ওজন কমানোর ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। কারও আবার ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা বা মেজাজের পরিবর্তনও হতে পারে। উপসর্গ বেশি হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।

হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপেও প্রভাব পড়তে পারে

সব ধরনের ওজন কমানোর ওষুধের প্রভাব এক নয়। কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা রক্তচাপের পরিবর্তনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাঁদের আগে থেকেই হৃদ্‌যন্ত্র বা রক্তচাপ সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহের মতো গুরুতর ঝুঁকিও রয়েছে

কিছু ক্ষেত্রে ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহারের সঙ্গে অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ বা প্যানক্রিয়াটাইটিসের মতো গুরুতর জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে। পেটের উপরের দিকে তীব্র ও লাগাতার ব্যথা, বিশেষ করে তার সঙ্গে বমি থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

পিত্তথলিতেও সমস্যা তৈরি হতে পারে

দ্রুত ওজন কমার সঙ্গে পিত্তথলিতে পাথর বা অন্যান্য সমস্যা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ডান দিকের উপরের পেটে তীব্র ব্যথা, বমি বা অস্বাভাবিক অস্বস্তি হলে তা হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়।

জলশূন্যতা থেকে কিডনির উপর চাপ

বারবার বমি বা ডায়রিয়ার কারণে শরীরে জল কমে গেলে কিডনির উপরও চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অত্যন্ত জরুরি।

দ্রুত ওজন কমলে মুখেও বদল আসতে পারে

খুব দ্রুত ওজন কমলে শরীরের সঙ্গে মুখের চর্বিও কমে যায়। ফলে মুখের স্বাভাবিক ভলিউম কমে গিয়ে ত্বক কিছুটা ঢিলে দেখাতে পারে এবং মুখে বয়সের ছাপ বেশি স্পষ্ট হতে পারে। তাই দ্রুত ওজন কমানো মানেই সবসময় স্বাস্থ্যকর ওজন কমানো নয়।

ওষুধ বন্ধ করলেই কি ওজন আর বাড়বে না?

ওজন কমানোর ওষুধকে কোনও ‘ম্যাজিক সমাধান’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ওষুধ বন্ধ করার পর অনেকের হারানো ওজনের একটা অংশ আবার ফিরে আসতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা—সবকিছুকেই গুরুত্ব দিতে হয়।

নিজের ইচ্ছায় নয়, চিকিৎসকের পরামর্শে

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, একই ওষুধ সবার জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে। বয়স, ওজন, অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে কি না, বর্তমানে কী কী ওষুধ চলছে—এসব বিবেচনা করেই চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন ওজন কমানোর ওষুধ আদৌ প্রয়োজন কি না।

তাই পরিচিতের পরামর্শ, সামাজিক মাধ্যমের প্রচার বা অনলাইনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিজের ইচ্ছায় ওজন কমানোর ওষুধ শুরু করা উচিত নয়। বিশেষ করে অজানা ‘স্লিমিং পিল’ বা ওজন কমানোর সামগ্রী থেকে দূরে থাকাই নিরাপদ।

দ্রুত রোগা হওয়ার চেয়ে সুস্থভাবে ওজন কমানোই আসল লক্ষ্য। আর সেই পথ ঠিক করতে চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *