ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের (ISI) কাজের পরিধি বাড়ানো এবং পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিষ্ঠানের আইনি কাঠামোয় সংস্কারের লক্ষ্যে আনা ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট বিল, ২০২৬ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হল। মঙ্গলবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বিলটি অর্থ মন্ত্রকের ডিপার্টমেন্ট-রিলেটেড স্ট্যান্ডিং কমিটির কাছে পাঠিয়েছেন। তিন মাসের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লোকসভা বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিলটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর দাবি জানিয়েছিল বিরোধী শিবির। একই সঙ্গে বিলের বিরোধিতায় সরব হয়েছিলেন ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও অধ্যাপকদের একাংশ।

– বিজ্ঞাপন –

চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনে গত ২ অগস্ট লোকসভায় বিলটি পেশ করা হয়েছিল। প্রস্তাবিত আইনে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটকে একটি ‘বডি কর্পোরেট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, শিক্ষাক্ষেত্রে উৎকর্ষ বৃদ্ধি এবং গবেষণার পরিধি বাড়ানোই সরকারের লক্ষ্য।

পরিসংখ্যান এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে তৈরি হওয়া নতুন চাহিদা পূরণের উপযোগী করে প্রতিষ্ঠানটিকে গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে বিলে। পাশাপাশি উন্নতমানের পরিসংখ্যানবিদ ও ডেটা সায়েন্টিস্ট তৈরির মাধ্যমে দেশের প্রযুক্তি ও আর্থিক ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি মেটানোর লক্ষ্য রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট হবেন ‘ভিজিটর’

প্রস্তাবিত বিলে ভারতের রাষ্ট্রপতিকে প্রতিষ্ঠানের ‘ভিজিটর’ করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি একটি বোর্ড অব গভর্নরস গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এই বোর্ডই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নীতি নির্ধারক ও কার্যনির্বাহী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।

বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে শিক্ষা, শিল্প, অ্যাকাডেমিয়া, জননীতি এবং পরিসংখ্যান বিজ্ঞানের মতো ক্ষেত্রের কোনও বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, এই বোর্ড কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।

বিজ্ঞাপন

এর পাশাপাশি একটি অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এটিই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষাগত সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর এই কাউন্সিলের প্রধান হবেন। প্রতিষ্ঠানের সমস্ত পূর্ণ সময়ের অধ্যাপক এবং পূর্ণ সময়ের শিক্ষক অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য থাকবেন।

১৯৫৯ সালের আইন বদলানোর প্রস্তাব

ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট বর্তমানে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট অ্যাক্ট, ১৯৫৯-এর অধীনে পরিচালিত হয়। ওই আইনে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘ইনস্টিটিউশন অব ন্যাশনাল ইমপোর্ট্যান্স’ বা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল এবং পরিসংখ্যান বিষয়ে ডিগ্রি ও ডিপ্লোমা দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।

১৯৯৫ সালে আইনে সংশোধন করে পরিসংখ্যানের পাশাপাশি গণিত, কোয়ান্টিটেটিভ ইকনমিক্স, কম্পিউটার সায়েন্স এবং পরিসংখ্যানের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়ে ডিগ্রি ও ডিপ্লোমা দেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো হয়।

তবে সরকারের বক্তব্য, ১৯৫৯ সালের আইনে প্রতিষ্ঠানের পরিচালন, প্রশাসন, অর্থ, দায়বদ্ধতা এবং কাজকর্ম সংক্রান্ত বিধান সীমিত। ফলে বর্তমান সময়ের পরিবর্তিত শিক্ষাক্ষেত্র ও গবেষণার চাহিদা পূরণে ওই আইন যথেষ্ট নয়।

এই কারণেই পুরনো আইনটি বাতিল করে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের জন্য একটি নতুন ও পূর্ণাঙ্গ আইন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ডেটা সায়েন্সে দক্ষতা তৈরির লক্ষ্য

বিলে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত আইনি সংস্কারের মাধ্যমে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে, যেখানে নতুন প্রজন্মের উচ্চমানের ডেটা সায়েন্টিস্ট এবং পরিসংখ্যানবিদ তৈরি করা যাবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রযুক্তি ও আর্থিক ক্ষেত্রে বর্তমানে তৈরি হওয়া বিপুল দক্ষতার ঘাটতি পূরণে সাহায্য করবে ISI।

তবে বিলের ভবিষ্যৎ কাঠামো এবং বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মহলে আপত্তি তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার বিষয়টি বিস্তারিত ভাবে খতিয়ে দেখবে সংসদীয় কমিটি।

তিন মাসের মধ্যে কমিটির রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা। ফলে রিপোর্টে বিলের কোন কোন প্রস্তাব নিয়ে সুপারিশ করা হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *