৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পর দেশের অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা এবং বিদেশ ভ্রমণ কমানোর পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার কিরঘিজস্তান থেকে একটি সেলফি ভিডিয়ো বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির এই গতি বজায় রাখতে ‘স্বদেশি’ এবং ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর উপর জোর দিতে হবে। সেই প্রসঙ্গেই বিদেশে ছুটি কাটানো, বিদেশে বিয়ে এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সোনা কেনা এড়ানোর বার্তা দেন তিনি।

সোমবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনীতি ৭.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রত্যাশার তুলনায় এই বৃদ্ধির হার বেশি হওয়ায় মঙ্গলবার কিরঘিজস্তান থেকেই অর্থনীতির এই সাফল্য তুলে ধরেন মোদী। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতির গতি আরও বাড়ানোর জন্য নাগরিকদের নিজেদের জীবনযাত্রার কিছু সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান তিনি।

– বিজ্ঞাপন –

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বিদেশ ভ্রমণ। তাঁর পরামর্শ, ছুটি কাটাতে সম্ভব হলে বিদেশে না গিয়ে দেশের মধ্যেই ভ্রমণ করা উচিত। শুধু বিদেশ ভ্রমণ নয়, বিদেশে গিয়ে বিয়ে করার প্রবণতাও বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মোদী বলেন, ‘Vocal for Local’ এবং ‘স্বদেশি’কে গ্রহণ করতে হবে। বিদেশে ছুটি কাটাতে যাওয়া এবং বিদেশে বিয়ে করার পরিবর্তে দেশেই সেই অর্থ খরচ করার পরামর্শ দেন তিনি। ‘Wed in India’ বা ভারতে বিয়ের আয়োজনের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা নিয়েও বার্তা

বিদেশ ভ্রমণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সোনা কেনার অভ্যাস নিয়েও বার্তা দিয়েছেন মোদী। তাঁর বক্তব্য, প্রয়োজন না থাকলে অপ্রয়োজনীয় ভাবে সোনা কেনা এড়ানো উচিত। দেশের অর্থনীতির বৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে এমন পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মূল লক্ষ্য দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী করা। বিদেশে ছুটি কাটানো, বিদেশে বিয়ের আয়োজন বা অতিরিক্ত সোনা কেনার পরিবর্তে সেই অর্থ দেশের মধ্যেই খরচ করলে স্থানীয় ব্যবসা ও পরিষেবা ক্ষেত্র উপকৃত হবে—তাঁর বক্তব্যে সেই বার্তাই উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

৭.৮% বৃদ্ধির পর অর্থনীতির গতি ধরে রাখার ডাক

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাতের মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি ৭.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন মোদী। তাঁর দাবি, নাগরিকদের পরিশ্রম এবং দেশের নীতির কারণেই এই সাফল্য এসেছে।

সেলফি ভিডিয়োতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে হবে। তাঁর বক্তব্য, সরকারের নীতি সঠিক এবং উদ্দেশ্যও আন্তরিক। দেশের মানুষকে এই অর্থনৈতিক গতি বজায় রাখার কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এর পাশাপাশি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ বা Atmanirbhar Bharat-এর বার্তাও ফের সামনে আনেন প্রধানমন্ত্রী। দেশীয় পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উপর জোর দেন তিনি।

লক্ষ্য ২০৪৭-এর ‘বিকশিত ভারত’

মোদীর বক্তব্যে ২০৪৭ সালের লক্ষ্যও উঠে এসেছে। স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তিতে একটি ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এখন থেকেই দেশের অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পর রাজনৈতিক ভাবেও এই পরিসংখ্যানকে সামনে আনতে শুরু করেছে বিজেপি। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ অর্থনীতির সমালোচনা নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতের অর্থনীতিকে ‘ডেড ইকোনমি’ বলা বা ‘ইকোনমিক সুনামি’র পূর্বাভাস দেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য।

তবে মোদীর মঙ্গলবারের বার্তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল অর্থনীতির বৃদ্ধির গতি ধরে রাখা এবং সেই লক্ষ্যে নাগরিকদের দেশে খরচ বাড়ানো, বিদেশ ভ্রমণ কমানো এবং অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা এড়ানোর আহ্বান।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *