আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও দেশের মেধার স্বাক্ষর রেখেছে বাংলাদেশ। চীনের শেনঝেনে অনুষ্ঠিত নবম আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে (আইইও) ২০২৬ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ব্রোঞ্জ পদক, গ্লোবাল চ্যাম্পিয়নশিপ এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।

৫৭টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় ধানমন্ডির মাস্টারমাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থী ফারাবিদ বিন ফয়সাল ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। একই সঙ্গে গুলশানের মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী জাইফ বিন মোর্শেদ প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘আইইও ইউথ টক’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশের জন্য অনন্য সাফল্য বয়ে আনেন। জাতীয় দলের অপর সদস্য ফারিহা তাসনিমও প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

জাতীয় দল গঠনের আগে দেশের ৪৮ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে কয়েক ধাপে বাছাই, জাতীয় ক্যাম্প এবং বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়িক বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে দলটিকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা হয়। এবারের আসরে বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড (বিডিইও) আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ‘স্পেশাল ইন্টারন্যাশনাল রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছে। অর্থনীতি শিক্ষার প্রসার এবং আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডের এক্সিকিউটিভ বোর্ড সদস্য ও বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডের নির্বাহী কমিটির সভাপতি মো. আল-আমিন পারভেজ। ডেপুটি লিডারের দায়িত্ব পালন করেন রাফিদ আবরার। এছাড়া মো. আল-আমিন পারভেজ ও মো. মানসুরুল হক আন্তর্জাতিক বিজনেস কেস প্রতিযোগিতায় জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ও পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, এই অর্জন প্রমাণ করে, বাংলাদেশের তরুণরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমান দক্ষতার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম। অর্থনীতি শিক্ষার প্রসারে বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর মো. মানসুরুল হক বলেন, আজকের এই অর্জন শুধু কয়েকজন শিক্ষার্থীর নয়; এটি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সক্ষমতার প্রতীক।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *