নয়াদিল্লি: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি থমকে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টির ঘাটতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ভারতের আবহাওয়া দফতর (আইএমডি)-র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৪ জুন থেকে ১৮ জুনের মধ্যে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৪১ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে।

এই সময়ে দেশে যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ছিল ৭২.২ মিলিমিটার, সেখানে হয়েছে মাত্র ৪২.৬ মিলিমিটার। সবচেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা গিয়েছে মধ্য ভারতে, যেখানে বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৭ শতাংশ কম। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে ঘাটতি ৪২ শতাংশ, দক্ষিণ ভারতে ২২ শতাংশ এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতে ৬ শতাংশ।

– বিজ্ঞাপন –

আইএমডি জানিয়েছে, অনুকূল আবহাওয়াগত পরিস্থিতির অভাবেই মহারাষ্ট্রে মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি কয়েকদিন ধরে থমকে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচটি প্রধান কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

প্রথমত, আরব সাগর থেকে শক্তিশালী আর্দ্রতাবাহী বায়ুপ্রবাহের অভাব রয়েছে। সাধারণত এই প্রবাহই মৌসুমি বায়ুকে শক্তিশালী করে এবং বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টিপাত ঘটায়।

দ্বিতীয়ত, আরব সাগরের উপর নিম্নস্তরের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে মহারাষ্ট্র উপকূল এবং অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে আর্দ্রতার সরবরাহ কমে গিয়েছে।

তৃতীয় কারণ হিসেবে আইএমডি জানিয়েছে, বিষুবরেখা অতিক্রমকারী বায়ুপ্রবাহ দুর্বল হয়ে যাওয়ায় মৌসুমি বায়ুর জন্য প্রয়োজনীয় জলীয় বাষ্পের সরবরাহ কমেছে।

বিজ্ঞাপন

চতুর্থত, বর্তমানে আরব সাগর বা বঙ্গোপসাগরে কোনও উল্লেখযোগ্য নিম্নচাপ, ঘূর্ণাবর্ত বা অফশোর ট্রফ তৈরি হয়নি, যা মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতিতে সহায়ক হতে পারত।

পঞ্চম কারণ হল ম্যাডেন-জুলিয়ান অসিলেশন (MJO)-এর দুর্বল পর্যায়। সাধারণত এই আবহাওয়া ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলে দক্ষিণ ভারতে মেঘ ও বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পায়, যা পরে দেশের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

আইএমডি জানিয়েছে, আগামী ৪ থেকে ৫ দিন মহারাষ্ট্রের বেশিরভাগ অংশে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে মৌসুমি বায়ুর ধীর গতি এবং প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পরিস্থিতির প্রভাব কৃষিক্ষেত্রেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে খরিফ চাষে সময়মতো বৃষ্টি না হলে উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান রাজ্যগুলিকে সম্ভাব্য কম বৃষ্টিপ্রবণ জেলাগুলি চিহ্নিত করে ফসলভিত্তিক বিকল্প পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। জল সংরক্ষণ, মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখা, আন্তঃফসল চাষ এবং বিকল্প ফসলের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রীর মতে, ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি জেলার জন্য পৃথক পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে, যাতে খরিফ মরশুমে কৃষকদের কোনও সমস্যার মুখে পড়তে না হয়।

সূত্র: ট্য টেলিগ্রাফ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *