বর্ষা এখন পুরোদমে চলছে। টানা বৃষ্টি, ভ্যাপসা গরম আর বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা—সব মিলিয়ে এই সময়টা যেমন আরামদায়ক, তেমনই ত্বকের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। ঘাম, ধুলো, দূষণ ও জীবাণুর প্রভাবে অনেকেরই এই সময় ব্রণ, র‍্যাশ, চুলকানি বা ছত্রাকের সংক্রমণের সমস্যা বেড়ে যায়। তাই বর্ষায় শুধু ছাতা সঙ্গে রাখলেই হবে না, ত্বকেরও প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। অনেকেরই এই সময় হঠাৎ ব্রণ বেড়ে যায়, ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে ওঠে, আবার কারও ত্বকে দেখা দেয় ছত্রাকের সংক্রমণ, চুলকানি বা র‍্যাশ। তাই শুধু মুখ ধুলেই দায়িত্ব শেষ নয়। বর্ষায় ত্বককে সুস্থ, সতেজ ও উজ্জ্বল রাখতে প্রয়োজন একটু পরিকল্পিত পরিচর্যা। ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজ অভ্যাস নিয়মিত মেনে চললেই এই মৌসুমেও ত্বক থাকবে প্রাণবন্ত ও সমস্যামুক্ত।

১. সানস্ক্রিন ব্যবহার বাদ দেবেন না

অনেকেই মনে করেন বর্ষাকালে রোদ কম থাকে, তাই সানস্ক্রিনের প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই ধারণা ভুল। মেঘের আড়াল থেকেও সূর্যের UVA রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই বাইরে বের হওয়ার অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগে ব্রড-স্পেকট্রাম SPF ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রতি ২-৩ ঘণ্টা অন্তর আবার লাগান। হালকা, জল ও ঘাম-প্রতিরোধী সানস্ক্রিন বর্ষাকালের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।

– বিজ্ঞাপন –

২. দিনে দু’বার মুখ পরিষ্কার করুন

বর্ষাকালে ঘাম, অতিরিক্ত তেল ও ধুলো সহজেই লোমকূপ বন্ধ করে দেয়। ফলে ব্রণ ও ব্ল্যাকহেডসের সমস্যা বাড়ে। তাই সকালে এবং রাতে ত্বকের ধরন অনুযায়ী একটি মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা জরুরি। এতে ত্বক সতেজ থাকে এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে। তবে অতিরিক্ত বারবার মুখ ধোয়া উচিত নয়, কারণ এতে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর নষ্ট হতে পারে।

৩. ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতেই হবে

আর্দ্র আবহাওয়ায় অনেকেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার বন্ধ করে দেন। অথচ বর্ষাতেও ত্বকের আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় রাখা সমান জরুরি। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জেল-ভিত্তিক এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য হালকা ক্রিম-ভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার উপযুক্ত। এতে ত্বক নরম থাকে এবং বাইরের জীবাণুর বিরুদ্ধে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা বজায় থাকে।

৪. সপ্তাহে ২-৩ বার এক্সফোলিয়েট করুন

মৃত কোষ জমে থাকলে ত্বক নিষ্প্রভ দেখায় এবং লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। তাই সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার হালকা এক্সফোলিয়েশন করলে ত্বক পরিষ্কার থাকে, উজ্জ্বলতা ফিরে আসে এবং অন্যান্য স্কিনকেয়ার পণ্যও ভালোভাবে কাজ করতে পারে। তবে অতিরিক্ত স্ক্রাব করলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। তাই সবসময় মৃদু এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করাই ভালো।

৫. ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী সিরাম ব্যবহার করুন

বর্ষাকালে হালকা টেক্সচারের সিরাম ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। ভিটামিন সি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে, নিয়াসিনামাইড অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ ও দাগছোপ কমাতে কার্যকর, আর হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। নিজের ত্বকের সমস্যা অনুযায়ী সিরাম বেছে নিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

৬. শরীরেরও যত্ন নিন

বর্ষাকালে তৃষ্ণা কম পেলেও শরীরে জলের ঘাটতি হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত জল পান করুন, পুষ্টিকর খাবার খান এবং ভেজা পোশাক দীর্ঘক্ষণ পরে থাকবেন না। পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার করুন এবং ত্বক যতটা সম্ভব শুকনো রাখুন। এতে ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

মনে রাখবেন

বর্ষাকালে ত্বকের যত্ন মানেই দামি প্রসাধনী নয়; বরং সঠিক অভ্যাসই সবচেয়ে বড় ওষুধ। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বজায় রাখা, সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন—এই কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই বর্ষার পুরো মৌসুমজুড়ে ত্বক থাকবে সুস্থ, সতেজ ও স্বাভাবিক উজ্জ্বলতায় ভরপুর।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *