প্রকৃতির প্রলয়ঙ্করী রূপের সামনে ছারখার আধুনিক সভ্যতা। আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ায় ঢেকেছে ইউরোপের আকাশ। ছাইয়ের চাদরে মুড়ে গিয়েছে সবুজ প্রান্তর। ফ্রান্স ও স্পেনের বিশাল অংশ জুড়ে চলা এই প্রকৃতির তাণ্ডবে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। এমন কঠিন সময়ে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ালেন লিওনেল মেসি। বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়া স্প্যানিশ এলাকার জন্য ৮০ হাজার ইউরো দান করেছেন তিনি।

আর্জেন্টিনার ফুটবলার হলেও মেসির কেরিয়ারে স্পেনের অবদান অপরিসীম। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনায় চলে এসেছিলেন মেসি। বার্সার তরফ থেকেই মেসির হরমোন সংক্রান্ত চিকিৎসা চালানো হয়। তারপর দীর্ঘদিন বার্সেলোনার জার্সিতে খেলেছেন এলএমটেন। এমনকি স্প্যানিশ পাসপোর্টও রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্পেনের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগও ছিল মেসির সামনে, তবে তিনি জন্মভূমি আর্জেন্টিনাকে বেছে নেন। বলা যেতে পারে, ফুটবলার মেসির জন্ম হয়েছিল স্পেনেই। 

আরও পড়ুন:

মেসির সেই প্রিয় স্পেন এখন দাবানলের গ্রাসে। ইউরোপজুড়ে তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে ৪০ ডিগ্রি। তীব্র দাবদাহ ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দাবানল ছড়িয়ে পড়ে হু হু করে। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের আশেপাশের অঞ্চল ইতিমধ্যেই দাবানলে পুড়ে ছারখার। প্রায় ৭৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ভস্মীভূত হয়েছে। দাবানল এতটাই ভয়াবহ যে আকাশে তৈরি হয়েছে বিরল ‘ফায়ার থান্ডারস্টর্ম’ বা আগুনের বজ্রঝড়। অতিরিক্ত তাপে ধোঁয়া, ছাই ও জলীয় বাষ্প দ্রুত বায়ুমণ্ডলে উঠে বিশাল মেঘ তৈরি করছে। সেই মেঘ থেকেই সৃষ্টি হচ্ছে বজ্রপাত, যা নতুন করে বিভিন্ন জায়গায় আবার আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। ফলে নানা প্রযুক্তি দিয়েও বাগে আনা যাচ্ছে না পরিস্থিতি।

মাদ্রিদের পার্শ্ববর্তী সিয়েরা অয়েস্তে এলাকা পুনর্গঠনের জন্য ৮০ হাজার ইউরো দান করেছেন তারকা ফুটবলার। ভারতীয় মুদ্রায় এই অঙ্কটা প্রায় ৮৮ লক্ষ টাকা। এই অর্থ ব্যবহার হবে পুড়ে যাওয়া নানা পরিকাঠামো সারিয়ে তোলার জন্য়। মেসিকে ইতিমধ্যেই ধন্যবাদ জানিয়েছেন মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট দিয়াজ আয়ুসো। নাগরিকদের তরফ থেকে মেসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আর্জেন্টিনীয় মহাতারকার তরফ থেকেই এই আর্থিক সাহায্যের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সঠিক খাতে যেন এই অর্থ ব্যবহৃত হয়, অনুরোধ জানিয়েছেন মেসি।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *