নদীদূষণ প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা এলাকায় গতকাল বুধবার (৬ আগস্ট) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে তরল বর্জ্য নির্গমনস্থল থেকে নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চল কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে নীট কনসার্ন লিমিটেড, ইব্রাহীম টেক্সটাইল, আমজাদ ডাইং, রাইডার থ্রেড অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ লিমিটেড এবং ফ্রেন্ডস ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সরকারি ছুটির কারণে প্রথম চারটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেগুলোতে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।

ফতুল্লার ওয়াপদারপুল এলাকায় অবস্থিত ফ্রেন্ডস ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং ইন্ডাস্ট্রিজে উৎপাদন চলমান থাকায় প্রতিষ্ঠানটির বাইপাস ড্রেন থেকে তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রাথমিক পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকা এবং ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) ছাড়া উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে। সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষায় দূষণের প্রমাণ মিললে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই দিনে পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখা, ঢাকা জেলা কার্যালয়, ঢাকা মহানগর কার্যালয় এবং ঢাকা গবেষণাগারের সমন্বয়ে পরিচালিত আরেক অভিযানে বুড়িগঙ্গা নদীর বিভিন্ন তরল বর্জ্য নির্গমনস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা নদী ও এর সংযোগ খালসংলগ্ন ১০৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত তরল বর্জ্য নির্গমনের দায়ে ২ কোটি ৯২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে ইটিপিবিহীন ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচলের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নদী ও জলাশয় দূষণ রোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের পরিদর্শন, নজরদারি ও আইনগত কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *