ডিপফেক, বিকৃত তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের লাগাম টানতে প্রযুক্তি সংস্থা মেটার উপর চাপ আরও বাড়াল কেন্দ্র। মেটার অ্যালগরিদমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি, এই ধরনের কনটেন্টের মোকাবিলায় সংস্থাটি কী কী পদক্ষেপ করবে, তার একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ জমা দিতে বলা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর।
কেন্দ্রের বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) বিশেষ করে ডিপফেক, ম্যানিপুলেটেড বা বিকৃত কনটেন্ট এবং অপপ্রচারের বিস্তার রুখতে আরও কার্যকর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর জোর দিয়েছে। পাশাপাশি মেটার কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
– বিজ্ঞাপন –
মোদীর পোস্ট ঘিরে বিতর্কের পরেই তৎপরতা
মেটা ও কেন্দ্রের মধ্যে সাম্প্রতিক টানাপড়েনের সূত্রপাত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িক ভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে। ওই ঘটনার পর মেটার আধিকারিকদের তলব করে কেন্দ্র। পরে মেটার তরফে বিষয়টি নিয়ে ক্ষমাও চাওয়া হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থাটি ঘটনাটিকে একটি অপারেশনাল ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিল।
এর পর কেন্দ্র ও মেটার আধিকারিকদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়। সেই আলোচনায় শুধু ওই পোস্টের ঘটনা নয়, মেটার প্ল্যাটফর্মে ক্ষতিকর ও বেআইনি কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের বৃহত্তর বিষয়টিও উঠে আসে। ডিপফেক এবং অন্যান্য বিকৃত কনটেন্ট মোকাবিলায় মেটার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর।
দ্রুত কনটেন্ট সরানোর উপরেও জোর
কেন্দ্রের নির্দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল কনটেন্ট মডারেশন আরও জোরদার করা। সরকার অনুমোদিত কোনও কর্তৃপক্ষ কোনও কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ জানালে দ্রুত পদক্ষেপ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে ডিপফেক, বট এবং অন্যান্য আপত্তিকর বা বেআইনি কনটেন্টের বিস্তার কী ভাবে কমানো যায়, তা নিয়েও মেটার কাছে কার্যকর ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে।
অর্থের বিনিময়ে কোনও নির্দিষ্ট বা একপেশে কনটেন্টকে অতিরিক্ত ভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টিও কেন্দ্রের উদ্বেগের তালিকায় রয়েছে বলে সংবাদ সংস্থাগুলির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অর্থাৎ শুধু পোস্ট সরানো নয়, কোন ধরনের কনটেন্ট কী ভাবে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, সেই অ্যালগরিদমিক প্রক্রিয়াতেও নজর দিতে চাইছে কেন্দ্র।
বিজ্ঞাপন
ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি আইন মানছে কি মেটা?
মেটা ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং সংশ্লিষ্ট ইন্টারমিডিয়ারি নিয়ম যথাযথ ভাবে মেনে চলছে কি না, তা নিয়েও কেন্দ্র নজর রাখছে। সাম্প্রতিক বৈঠকগুলিতে প্ল্যাটফর্মের কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর। মেটার তরফে ক্ষতিকর কনটেন্ট, ডিপফেক এবং অন্যান্য বেআইনি বিষয়বস্তু মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এ দিকে, ২০২৬ সালে কেন্দ্র অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলির জন্য সিন্থেটিক বা এআই-নির্মিত কনটেন্ট শনাক্ত ও লেবেল করার মতো আরও কড়া নিয়ম চালু করেছে। বেআইনি কনটেন্ট সরানোর ক্ষেত্রেও সময়সীমা আগের তুলনায় কমানো হয়েছে। ফলে মেটার মতো বড় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির উপর নিয়ন্ত্রক নজরদারি আরও বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, মেটার সঙ্গে কেন্দ্রের সাম্প্রতিক আলোচনায় বিষয়টি এখন আর শুধু একটি পোস্ট সাময়িক ভাবে সরিয়ে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ডিপফেক, অপপ্রচার, কনটেন্টের অ্যালগরিদমিক বিস্তার এবং ভারতের আইন মেনে চলা—এই সবকিছুকে একসঙ্গে রেখে প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব ও জবাবদিহি আরও বাড়ানোর দিকেই এগোচ্ছে কেন্দ্র।
