টানা কাজ করলেই যে কাজ বেশি হবে, এমনটা নয়। বরং দীর্ঘ সময় একটানা কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা মোবাইলের সামনে বসে থাকলে একসময় কমতে পারে মনোযোগ, বাড়তে পারে ক্লান্তি। তাই কাজের মাঝখানে মাত্র কয়েক মিনিটের বিরতিও হয়ে উঠতে পারে শরীর ও মস্তিষ্ককে চাঙ্গা রাখার সহজ উপায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট একই কাজে মন দেওয়ার পর মনোযোগে ভাটা আসতে পারে। সেই সময়ও বিরতি না নিয়ে কাজ চালিয়ে গেলে ভুলের সম্ভাবনা বাড়ে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমতে পারে এবং মানসিক ক্লান্তি আরও তীব্র হয়। তাই প্রতি ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ মিনিটের ছোট বিরতি নেওয়া যেতে পারে।

– বিজ্ঞাপন –

শুধু মন নয়, বিশ্রাম চায় শরীরও

দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে কাজ করার ফলে ঘাড়, কাঁধ ও কোমরে ব্যথা, পেশিতে টান কিংবা কবজিতে অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কাজের ফাঁকে উঠে কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করা বা হালকা স্ট্রেচিং করলে শরীরের জড়তা কাটাতে সাহায্য করতে পারে।

চোখের উপরও পড়ে দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার প্রভাব। চোখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা, জ্বালা বা মাথাব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বহুল প্রচলিত ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলা যেতে পারে—প্রতি ২০ মিনিট অন্তর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য প্রায় ২০ ফুট দূরের কোনও বস্তুর দিকে তাকানো।

বিরতির পাঁচ মিনিটে কী করবেন?

বিরতি মানেই কিন্তু মোবাইলে সোশ্যাল মিডিয়া খুলে বসা নয়। বরং এই কয়েক মিনিট কাজে লাগানো যেতে পারে আরও কার্যকর ভাবে।

  • চেয়ার ছেড়ে উঠে একটু হাঁটুন।
  • ঘাড়, কাঁধ ও হাতের হালকা স্ট্রেচিং করুন।
  • এক গ্লাস জল পান করুন।
  • কয়েক বার ধীরে গভীর শ্বাস নিন।
  • জানালা দিয়ে বাইরে বা দূরের কোনও বস্তুর দিকে তাকান।
  • সম্ভব হলে কয়েক মিনিট প্রকৃতি বা খোলা জায়গার দিকে তাকিয়ে থাকুন।

এই ছোট অভ্যাসগুলি শরীরের জড়তা কাটানোর পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

কাজের চাপে খাবার বাদ নয়

অনেকেই কাজের ব্যস্ততায় সময়মতো দুপুরের খাবার খান না। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে দুর্বলতা, বিরক্তি কিংবা মনোযোগে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও নির্দিষ্ট সময়ে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত জল পান করা জরুরি।

বিরতি মানেই সময় নষ্ট নয়

বর্তমানে অনেক কর্মক্ষেত্রেই কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট বিরতি, ওয়েলনেস প্রোগ্রাম, মেডিটেশন বা মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার মতো উদ্যোগও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে।

আসলে বিশ্রাম কাজের বিপরীত নয়। বরং দীর্ঘ সময় ধরে ভালো ভাবে কাজ করার জন্য বিরতিও প্রয়োজন। তাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা কাজ করার বদলে প্রতি ঘণ্টায় কয়েক মিনিটের বিরতি, পর্যাপ্ত জল, নিয়মিত খাবার এবং স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস দৈনন্দিন কর্মজীবনে জায়গা করে দিতে পারে। স্মার্ট ভাবে কাজ করার জন্য কখন কাজ থামাতে হবে, সেটাও জানা জরুরি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *