নদীপথে যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে কলকাতায়। এবার তিলোত্তমায় চালু হতে চলেছে ওয়াটার মেট্রো পরিষেবা। বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, দেশের ১৮তম শহর হিসেবে এই পরিষেবার আওতায় আসছে কলকাতা।

দেশে প্রথম ওয়াটার মেট্রো পরিষেবা চালু হয়েছিল কেরলের কোচিতে। এরপর ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন শহরে এই প্রকল্প বিস্তার লাভ করেছে। প্রথম পর্যায়ে গুয়াহাটি, শ্রীনগর, বারাণসী, অযোধ্যা, প্রয়াগরাজ, পাটনা, তেজপুর এবং ডিব্রুগড়-সহ একাধিক শহরে এই পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই তালিকাতেই এবার যুক্ত হল কলকাতার নাম।

– বিজ্ঞাপন –

ওয়াটার মেট্রো মূলত নদী, খাল, হ্রদ বা অন্যান্য জলপথ ব্যবহার করে পরিচালিত আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নৌ-পরিবহণ ব্যবস্থা। এটি নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলবে এবং শহুরে গণপরিবহণের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।

কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে প্রবাহিত হুগলি নদীকে কেন্দ্র করেই এই পরিষেবার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ দুই শহরের মধ্যে যাতায়াত করেন। ফলে জলপথে দ্রুত, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থা চালু হলে যাত্রীদের সময় ও খরচ— দু’দিক থেকেই সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াটার মেট্রো চালু হলে সড়ক ও রেলপথের উপর চাপও অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি পর্যটন ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই নৌযান পরিবেশ দূষণ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এদিকে একই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘সাগরমালা’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে যুক্ত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ।

বিজ্ঞাপন

সাগরমালা প্রকল্প মূলত বন্দরভিত্তিক উন্নয়ন, শিপিং, লজিস্টিকস এবং আমদানি-রপ্তানি পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের একটি বৃহৎ কর্মসূচি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পূর্বতন সরকার এই প্রকল্পে অংশ না নেওয়ায় বাংলা সাগরমালা-১-এর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল।

তবে এবার সাগরমালা-২ প্রকল্পের আওতায় বাংলায় প্রায় ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এর ফলে রাজ্যের বন্দর, জলপথ, পরিবহণ ও শিল্পক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

ওয়াটার মেট্রো এবং সাগরমালা-২— এই দুই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের পরিবহণ এবং অর্থনৈতিক পরিকাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *