মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছেন। মার্কিন ও ইরানি কর্তাদের মতে, প্রেসিডেন্টরা বুধবার এই এমওইউ স্বাক্ষর করেন। চুক্তিটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছেন। মার্কিন ও ইরানি কর্তাদের মতে, প্রেসিডেন্টরা বুধবার এই এমওইউ স্বাক্ষর করেন। চুক্তিটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে ম্যাক্রোঁর সঙ্গে নৈশভোজের সময় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির একটি মুদ্রিত কপিতেও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষরিত চুক্তির একটি অনুলিপি ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রবিবার, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবফ ইলেকট্রনিকভাবে এমওইউটি স্বাক্ষর করেন। মার্কিন কর্তারা বলছেন, এই এমওইউ স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে প্রায় চার মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটল।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

জেনেভা আলোচনা এখনও নির্ধারিত রয়েছে

তবে, উভয় দেশের আলোচক দলের শুক্রবার জেনেভায় একত্রিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানি কর্তারা জানিয়েছেন যে, শুক্রবার সুইৎজারল্যান্ডে বৈঠকের উদ্দেশ্য চুক্তি স্বাক্ষর করা নয়। এছাড়াও, বৈঠকটি আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কিনা, সে বিষয়ে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে, এটি এও ইঙ্গিত দেয় যে দলিলটি ডিজিটালভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, তাই সুইৎজারল্যান্ডে কোনও মুখোমুখি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না।

তেল বিক্রি ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল

ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন যে, তেহরানকে কোনও পরিবহন বা বিমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ছাড়াই তার তেল বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া উচিত এবং সেই বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের উপর তার পূর্ণ অধিকার থাকা উচিত। তিনি আরও বলেন যে, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ফেরানোর পথে বাধা দূর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরান চায় তেল পরিবহনকারী জাহাজের উপর কোনও বিধিনিষেধ বা বিমা পরিষেবা ছাড়াই অবাধে তার তেল রফতানি করতে এবং তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ সরাসরি নিতে।

ইরান বলছে যে আগামী ৬০ দিনের জন্য উভয় দেশকে অবশ্যই সংযম দেখাতে হবে এবং এমন কোনও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা সামরিক পদক্ষেপ পরিহার করতে হবে। যা চুক্তি বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক আস্থার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর আগে, সুইৎজারল্যান্ডের লুসার্নের নিকটবর্তী বার্গেনস্টক রিসোর্টে শুক্রবারের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির মধ্যে মার্কিন কর্তারা সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, এই চুক্তিটি কেবল একটি প্রাথমিক কাঠামো। উভয় পক্ষ যে কোনও সময় চূড়ান্ত চুক্তি থেকে সরে আসতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্তা বলেন, সুইৎজারল্যান্ডে পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হবে যে এই কাঠামোটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী চুক্তিতে রূপান্তরিত হবে কি না। দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুসারে, স্বাক্ষরের পর ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরু হবে, যা উভয় পক্ষের সম্মতিতে বাড়ানো যেতে পারে। এই সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *