কী বলছে তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি?Image Credit: TV9 Bangla

কলকাতা: ভোটে ভরাডুবি হতেই তৃণমূলের একের পর এক নেতা ফোঁস করে উঠছেন। তাঁদের নিশানায় তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের পরাজয়ের জন্য তাঁর দিকেই আঙুল তুলছেন নেতারা। এই পরিস্থিতিতে কড়া পদক্ষেপ করল তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। অভিষেকের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় ‘ডিজে বাজানো’ হল। ৫ নেতাকে শোকজ করল তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

অভিষেকের বিরুদ্ধে সরব একের পর এক নেতা-

১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এবারের নির্বাচনে তিন অঙ্কের আসনও ছুঁতে পারেনি তৃণমূল। ভোটের প্রচারে বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন অভিষেক। বিভিন্ন সভা থেকে ভোটের ফল বেরনোর পর ডিজে বাজানোর হুঁশিয়ারি দিতেন। দলের ভরাডুবি হলেও অভিষেকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি, জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে সবাইকে উঠে দাঁড়িয়ে অভিষেককে অভিবাদন জানানোরও নির্দেশ দেন তিনি। তখনই মমতা জানিয়েছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দলের ভেতরে বা বাইরে সরব হলে কিংবা দলের শৃঙ্খলার পরিপন্থী কাজ করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে

তৃণমূলের এই হুঁশিয়ারি অবশ্য কাজ করেনি। অভিষেকের বিরুদ্ধে একের পর এক নেতা, মুখপাত্র মুখ খোলেন। তৃণমূল মুখপাত্র কোহিনুর মজুমদার টিভি৯ বাংলাকে বলেন, “দলের পরাজয়ে একজন যদি দায়ী হন, তবে তিনি অভিষেক।” তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে দলের নেতাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হত বলে তিনি অভিযোগ করেন। অভিষেকের বিরুদ্ধে সরব হন মালদহের বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। আবার তৃণমূল মুখপাত্র ঋজু দত্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোট পরবর্তী হিংসার রুখতে বিজেপির পদক্ষেপের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। একইরকমভাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন পাপিয়া ঘোষ এবং কার্তিক ঘোষ। পাপিয়া ঘোষের কোচবিহারের বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষের কন্যা। মেয়ের মতো রবীন্দ্রনাথ ঘোষও অভিষেকের বিরুদ্ধে সরব হন। তবে তাঁকে শোকজ করেনি দল।

অসন্তোষ থামাতে শোকজ-

দলে অসন্তোষ বাড়ছে বুঝতে পেরেই কড়া পদক্ষেপ করল তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। এদিন শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির তরফে ডেরেক ও’ব্রায়েন পাঁচ মুখপাত্র, নেতাকে শোকজ চিঠি পাঠালেন। ওই পাঁচজন হলেন কোহিনুর, কৃষ্ণেন্দু, ঋজু, পাপিয়া এবং কার্তিক। শোকজ নোটিসে বলা হয়েছে, দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর মন্তব্য করা হয়েছে। শোকজ চিঠিতে ডেরেক লিখেছেন, “কেন আপনার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে না, তা জানান।” প্রত্যেককেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আর কোনও মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব না পেলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন ডেরেক।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *