প্রতীক জটিলতায় ধাক্কা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির। রেজিনগর উপনির্বাচনে চেনা ‘বাঁশি’ প্রতীকে লড়াই করতে পারছেন না হুমায়ুন পুত্র গোলাম নবী আজাদ রবিন। কমিশনের তরফে তাঁকে বরাদ্দ করা হয়েছে ‘টেবিল’ চিহ্ন। আজ, শনিবার ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। এদিনই প্রতীক বরাদ্দ করে নির্বাচন কমিশন। নতুন প্রতীক বরাদ্দ হতেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রবিন। শুধু তাই নয়, কড়া ভাষায় একযোগে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে তোপ দাগেন তিনি। যদিও এক আধিকারিকের কথায়, কমিশন যা করছে আইন মেনেই করছে।
এদিন সকালে আচমকাই ‘ভোট যুদ্ধ’ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসে’র প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। যদিও কয়েকঘণ্টার মধ্যেই ‘ইউটার্ন’ নেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হওয়ার পরই নিজের আগের সিদ্ধান্ত সরে আসার ঘোষণা করেন রবিউল।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস। বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন আগে তৃণমূল ছেড়ে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গড়েন হুমায়ুন কবীর। দলের প্রতীক হয় ‘বাঁশি’। ওই প্রতীক নিয়েই গত বিধানসভা ভোটে রেজিনগর ও নওদা দুই কেন্দ্র থেকেই জেতেন তিনি। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী রেজিনগর ছাড়েন হুমায়ুন। এহেন প্রেক্ষাপটেই এখন রেজিনগরে উপনির্বাচন হচ্ছে। সেই নির্বাচনেই ‘বাঁশি-হারা’ হুমায়ুন পুত্র রবিন। এরপরেই গর্জে ওঠেন তিনি। রবিনের দাবি, তিনি প্রথম প্রার্থী হিসেবে ৯ সেপ্টেম্বর ‘বাঁশি’ চিহ্নে মনোনয়ন জমা দেন। সেদিনও কমিশনের ওয়েবসাইটে ‘বাঁশি’ ফ্রি সিম্বল হিসেবে ছিল। ১৯৭টি ফ্রি প্রতীকের তালিকায় ‘বাঁশি’ ছিল। কোনও দলের জন্য বরাদ্দ ছিল না।
তাঁর অভিযোগ, ১৭ সেপ্টেম্বর স্ক্রুটিনির দিন কমিশন নতুন করে ১৮৩টি প্রতীকের তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে ‘ঘাসফুল’ ও ‘বাঁশি’ দুটোই উধাও। অথচ মনোনয়ন জমার সময় পর্যন্ত ‘বাঁশি’ ব্যবহার করা যাবে না, এমন কোনও নির্দেশিকা ছিল না। রবিন বলেন, “নির্বাচন কমিশন শুধু বিজেপি আর নোটার প্রতীক ইভিএমে রেখে দিক। আর কাউকে লড়তে দেওয়ার দরকার নেই। আমাদের দেওয়াল লিখন হয়ে গেছে। এখন সব মুছে ‘টেবিল’ আঁকতে হবে। ভোটারদের নতুন প্রতীক চেনাতে হবে। এটা ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের অস্বস্তিতে ফেলার চেষ্টা।” যদিও জয়ের ব্যাপারে সম্পূর্ণভাবে আত্মবিশ্বাসী হুমায়ুন পুত্র। তাঁর কথায়, ”২০১৬ সালে বাবা এই রেজিনগরেই ‘টেবিল’ চিহ্ন নিয়ে লড়েছিলেন। তাই ‘টেবিল’ও মানুষের কাছে পরিচিত। এই চিহ্নই বাকি সব প্রতীককে পিছনে ফেলে দেবে।”
যদিও হুমায়ুন পুত্র গোলাম নবী আজাদ রবিনের সমস্ত অভিযোগ এদিন উড়িয়ে দিয়েছেন প্রশাসনের এক আধিকারিকরা। তাঁর পালটা যুক্তি, ব্যক্তি নয়, দল বিধায়ক হয়। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি স্বীকৃত দল নয়, তাই স্থায়ী প্রতীক নেই। কমিশন আইন মেনেই কাজ করেছে। বলে রাখা প্রয়োজন, এদিন সকালে আচমকাই ‘ভোট যুদ্ধ’ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসে’র প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। যদিও কয়েকঘণ্টার মধ্যেই ‘ইউটার্ন’ নেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হওয়ার পরই নিজের আগের সিদ্ধান্ত সরে আসার ঘোষণা করেন রবিউল। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নতুন প্রতীক ‘ফুটবলার’ চিহ্নে লড়াই করবেন তিনি। জানিয়েছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো লড়াই করব। নতুন প্রতীক নিয়ে লড়াই হবে। আমরা আগেও অনেক নির্বাচন করেছি। অল্পকর্মী নিয়ে হলেও লড়ব। কর্মীরা সামলে নেবে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
