বেলা তখন দুপর থেকে বিকেলের পথে। চড়া রোদে ইডেনে নেট চলছে রাজস্থান রয়্যালসের। মাঝের নেটে রয়েছেন ‘জয়’। হাই কোর্ট প্রান্তের সাইটস্ক্রিনের কিছুটা পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর ব্যাটিং দেখছিলেন কয়েকজন মাঠকর্মী। পরপর কয়েকটা বল সেদিকে উড়ে যেতেই সামান্য সরে গেলেন তাঁরা। কিছুক্ষণ পর ‘সূর্য’ ব্যাট হাতে ঢুকলেন সেই নেটে। তিনি ব্যাটিং শুরুর আগে এলাকা আরও ফাঁকা। আসলে গত দু’দিনের অভিজ্ঞতা থেকে মাঠকর্মীরা জানেন, বোলারদের প্রতি দ্বিতীয়জনের আচরণ আরও নির্মম, নৃশংস। ফলে সোজা উড়ে আসা বলের সংখ্যা বাড়বে বই কমবে না।

কে ‘জয়’? কে ‘সূর্য’? জয় মানে জয়সওয়াল। যশস্বী জয়সওয়াল। সূর্য অর্থাৎ সূর্যবংশী। বৈভব সূর্যবংশী। রাজস্থানের দুই তারকা। রবিবাসরীয় ইডেনে ম্যাচটা কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম রাজস্থান রয়‍্যালস বটে, তবে সেটা আইপিএলের সূচিতে। ছাপানো টিকিটে। স্কোরবোর্ডে। আদতে ‘জয়-সূর্য’ বনাম কেকেআর। রবিবারের ইডেনে ম্যাচ হবে ‘ফ্রেশ’ উইকেটে। তবে খবর নিয়ে জানা গেল, এই পিচ আগের সব ম্যাচের মতো। স্পোর্টিং উইকেট। তার উপর দুপুরে ম্যাচ হওয়ায় কোনও শিশির ফ্যাক্টর নেই।

আরও পড়ুন:

IPL 2026: Anti corruption unit of BCCI sent notice to Rajasthan RoyalsIPL 2026: Anti corruption unit of BCCI sent notice to Rajasthan Royals
বৈভব সূর্যবংশী। ফাইল ছবি।

উইকেট তৈরির সঙ্গে জড়িত একজনের বক্তব্য, দু’শো-দু’শো কুড়ি হওয়া উচিত। যশস্বী-বৈভবদের ব্যাট কথা বলা শুরু করলে সেই রানটা যে আড়াইশোর গণ্ডিতে পৌঁছে যাবে, বলাই বাহুল্য। বিশেষত বৈভব। বুমরা-হ্যাজেলউডের মতো বোলারদের স্রেফ উড়িয়ে দিচ্ছে পনেরো বছরের এক কিশোর-সেই দৃশ্য স্তম্ভিত করেছে ক্রিকেট ভক্তদের। শেষ কয়েকদিনের নেট সেশন যদি সূচক হয়, কেকেআর বোলারদের কাছে একটাই পথ। যত দ্রুত সম্ভব বৈভব-কাঁটা উপড়ে ফেলতে হবে। নেটে শুরুর দিকে ঢুকটাক কয়েকটা বলে আউট হচ্ছিলেন রয়‍্যালস ওপেনার। কিন্তু তারপর শুধুই নিরুত্তাপ প্রহার। ফলে ম্যাচে শুরুর দিকে যদি তাঁকে না ফেরাতে পারেন কার্তিক ত্যাগীরা, গ্যালারি ক্ষণে ক্ষণে উত্তাল হবেই। চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে।

শেষ দু’টো ম্যাচ মিলিয়ে ষাট হাজারও লোক হয়নি ইডেনে। তবে রবিবারের ম্যাচে চাহিদা রয়েছে টিকিটের। সবার মুখে প্রায় একটাই কথা। বৈভবকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। সে যতই শেষ ম্যাচে শূন্য করুন তিনি। রাজস্থান কোচ কুমার সঙ্গাকারাও জানেন, প্রচারের আলো অনেকটাই এখন কিশোর ব্যাটারের উপর। তাই বৈভব যাতে চাপে না পড়েন, সেদিকে নজর রেখেছেন প্রবলভাবে। বলে গেলেন, “খোলা মনে ব্যাট করাটাই বৈভবের চরিত্র। তাতে কোনও বদল করতে চাই না। ওকে বলেছি, ৩৫ বলে একশো, ১৫ বলে পঞ্চাশ কিংবা শূন্য রানে আউট- সবকিছু করার স্বাধীনতা তোমার আছে। পরিস্থিত যাই হোক চাপমুক্ত হয়ে খেলবে।” শনিবার নেটে আসেননি রাজস্থানের অনেকেই। তবে রবীন্দ্র জাদেজা শেষ দু’দিনের অনুপস্থিতি পুষিয়ে ঘণ্টাখানেক ব্যাটিং করলেন সাইড নেটে। যশস্বী আর বৈভব মিনিট পনেরো করে ব্যাট করলেন। রবি বিষ্ণোই কিছুক্ষণ বল করলেন। সবমিলিয়ে অনেকটাই ফুরফুরে মেজাজে রয়‍্যালস শিবির।

কেকেআর আবার আমেহদাবাদ থেকে শহরে ফিরল সন্ধ্যার দিকে। শুক্রবারই ম্যাচ খেলেছে দল। ফলে এদিন আর প্র্যাকটিসের পর্ব ছিল না। সুনীল নারিন-বৈভব অরোরারা সরাসরি রবিবার ম্যাচ খেলতে নামবেন। ক্যামেরন গ্রিনের রানে ফেরা স্বস্তি দিয়েছে দলকে। বরুণ চক্রবর্তীর বোলিংয়েও উন্নতি হয়েছে। টিম সাইফার্টকে ওপেনে আনার সিদ্ধান্ত ফল দেয়নি ঠিকই। তবে যা খবর, রবিবারও সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। দলে অন্য কোনও পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম। শনিবার রাতের দিকে টিমের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মাথিশা পাথিরানা। তবে রবিবারের রাজস্থান ম্যাচে তিনি বাইরেই থাকছেন বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *