গরু পাচার রুখতে কড়া নজরদারি। ইডি-সিবিআই তদন্তের পর ফের রাজ্য সরকারের নির্দেশে কড়া নজরে ইলামবাজার সুখবাজার হাট। শনিবারের গরুহাট ঘিরে উৎকণ্ঠা হাট কমিটি ও ব্যবসায়ীরা। বেআইনি পশুহাটের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি বৈধ গরুর হাটগুলিতেও নিয়মিত কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই নির্দেশ জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছতেই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ইলামবাজারের গরুর হাট ব্যবসায়ীরা।

দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ ইলামবাজার সুখবাজার গরুর হাট এবার প্রশাসনের বিশেষ নজরদারির আওতায়। দীর্ঘদিন ধরেই এই হাট থেকে মুর্শিদাবাদ হয়ে বাংলাদেশে গরুপাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই অভিযোগকে ঘিরেই অতীতে সিবিআই ও ইডি তদন্তও শুরু করে। বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। ওই মামলাতেই তৃণমূলের বর্তমান জেলার কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডলকে প্রায় আড়াই বছর তিহার জেলে বন্দি থাকতে হয়েছিল।

আরও পড়ুন:

ইলামবাজার সুখবাজারে প্রতি শনিবার জঙ্গল লাগোয়া বিস্তীর্ণ মাঠে পশুহাট বসে। মূলত গরু কেনাবেচার জন্যই পরিচিত হাট। প্রশাসনের তরফে গরু পাচার রুখতে জেলা পুলিশ সুপারকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি হাট ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। আগামী শনিবার প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর ব্যবসায়ীদের। স্থানীয় ব্যবসায়িক শেখ সামাদ ও রাতুল শেখ বলেন,” এই হাট নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা বদনাম থাকলেও সমস্ত বৈধতা মেনেই ব্যবসা করে আসছি। প্রশাসন নজরদারি করুক। কিন্তু অযথা হয়রানি বন্ধ হোক। তবে নতুন করে সরকারের নির্দেশের পর দুশ্চিন্তায় রয়েছি।”

Illambazar Market which led to anubrata Mandal arrest, under scanner
এই সেই ইলামবাজারের হাট। নিজস্ব চিত্র

প্রসঙ্গত, ইলামবাজার সুখবাজারের পশুহাট প্রাচীন। অজয় নদের জনপথ সংলগ্ন ইলামবাজার বনাঞ্চলের পাশে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে প্রতি শনিবার এই হাট বসে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঝাড়খণ্ড সীমান্ত হয়ে জেলায় গরু আনা-নেওয়া তুলনামূলক সহজ। অন্যদিকে, জেলা পেরলেই মুর্শিদাবাদ এবং সেখান থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই গরু পাচারের ক্ষেত্রে করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ইলামবাজারের পশুহাট। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, “জঙ্গলপথ ব্যবহার করে বড় কন্টেনার ও ট্রাকে করে শান্তিনিকেতন, বোলপুর, নানুর বা লাভপুর থানা এলাকা পেরিয়ে সহজেই গরু মুর্শিদাবাদে পৌঁছে দেওয়া সহজ। আর সেখান থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পার করাতে পারলেই কয়েকগুণ বেশি লাভ মেলে ব্যবসায়ীদের।”

এছাড়াও অজয় নদ পেরিয়ে কাঁকসা থানা হয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও ইলামবাজারের গরুর ব্যবসার বিস্তার বহু চর্চিত। বর্তমানে হাটে ছোট গরুর দাম প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং বড় গরুর দাম ৮৫ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা। অনেক সময় নম্বরপ্লেটহীন ট্রাক ও লরিতে গরু পাচারের অভিযোগও প্রায়শই ওঠে। ইডি ও সিবিআইয়ের নজরদারির পর এবার রাজ্য সরকারের নির্দেশে ফের প্রশাসনের কড়া নজরে এসেছে ইলামবাজারের গরুর হাট। তবে শুধু ইলামবাজার নয়, লাভপুর, সাঁইথিয়া, রাজনগর ও রামপুরহাটের ছোট পশুহাটগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। জেলার এক পুলিশকর্তা বলেন, “সরকারি নির্দেশ আসার পর থেকেই গরুর হাটগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। বৈধ হাট থেকে কোনওভাবেই যাতে গরু পাচার না হয়, তা নিশ্চিত করবে পুলিশ।”

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *