France vs Sweden: বিশ্বকাপে রাউন্ড অফ ৩২-র অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচে ভারতীয় সময় মঙ্গলবার মধ্যরাতে, নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় ফ্রান্স বনাম সুইডেন। সেই ম্যাচেই ৩-০ গোলে জয় ফ্রান্সের। ফরাসি ঝড়ে লণ্ডভণ্ড সুইডেন! এমবাপের জোড়া গোলে তছনছ সুইডিশ ডিফেন্স, হাসতে হাসতে পরের রাউন্ডে ফ্রান্স।
France vs Sweden: বিশ্বকাপে রাউন্ড অফ ৩২-র অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচে ভারতীয় সময় মঙ্গলবার মধ্যরাতে, নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় ফ্রান্স বনাম সুইডেন (france vs sweden)। সেই ম্যাচেই ৩-০ গোলে জয় ফ্রান্সের। জোড়া গোল করলেন কিলিয়ান এমবাপে। কার্যত, ফরাসি ঝড়ে লণ্ডভণ্ড সুইডেন! এমবাপের জোড়া গোলে তছনছ হল সুইডিশ ডিফেন্স এবং হাসতে হাসতে পরের রাউন্ডে চলে গেল ফ্রান্স। ম্যাচের ফলাফল ৩-০ (france vs sweden world cup 2026)।

ফরাসি ঝড়ে লণ্ডভণ্ড সুইডেন!

ম্যাচের শুরুতেই একটি আক্রমণ তুলে আনে সুইডেন। অ্যালেকজান্ডার ইসাকের শট রুখে দেন মাইক মেইনান। কিন্তু তারপর থেকেই শুরু ফরাসি ঝড়। ১৫ মিনিটের মাথায়, ফ্রান্সের ডিফেন্ডার লুকাস ডিগনের শট সেভ করেন সুইডেনের গোলকিপার উইডেল জেটারস্ট্রম। এরপর ১৭ মিনিটে, আবার সেভ। এবার কিলিয়ান এমবাপের শট রুখে দেন সুইডিশ গোলরক্ষক।
খেলার ১৯ মিনিটের মাথায়, ব্র্যাডলি বারকোলার শট অনেকটা উপর দিয়ে চলে যায়।সেই সময়, লাগাতার ঝড়ের গতিতে আক্রমণ শানাটে শুরু করে ফরাসি ব্রিগেড। তবে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকেও উঠে আসছিল সুইডেন।
![]()
সেই সুবাদেই ফের একবার ডান পায়ের জোরালো শট নেন অ্যালেকজান্ডার ইসাক। কিন্তু সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের ২০ মিনিটে, কিলিয়ান এমবাপের গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায়।
২৮ মিনিটের মাথায়, ফরাসি ফরোয়ার্ড ডেম্বেলের শট ব্লক হয়। অন্যদিকে, আদ্রিয়েন র্যাবিয়টের শট সেভ করেন জেটারস্ট্রম। নিঃসন্দেহে ওপেন ফুটবল চলছিল এবং খেলায় ভালো গতি ছিল। ম্যাচের ৩২ মিনিটে, কিলিয়ান এমবাপের শট পোস্টে লাগে।

এমবাপের জোড়া গোলে তছনছ সুইডিশ ডিফেন্স
তারপর একের পর এক আবারও আক্রমণ। কখনও এমবাপে, কখনও ডেম্বেলে কিংবা আবার র্যাবিয়ট! কার্যত, দিশেহারা সুইডিশ ডিফেন্স। খেলার ৩৯ মিনিটে, উপামেকানোর হেডার বাইরে চলে যায়। ৪০ মিনিটে, ফের একটি সেভ করেন সুইডিশ গোলকিপার। এরপর ৪২ মিনিটে, মাইকেল ওলিসের শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কিন্তু ঠিক ৪৫ মিনিটের মাথায়, কাঙ্ক্ষিত গোলটি পায় ফ্রান্স।
কর্নার থেকে আসা বলে ডেম্বেলের পাস থেকে ডান পায়ের দুরন্ত শটে গোল করে যান এমবাপে। কার্যত, রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে টপ রাইট কর্নার দিয়ে বলকে জালে জড়িয়ে দেন তিনি এবং সঙ্গে সঙ্গে ফ্রান্স এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে। সবথেকে বড় বিষয়, এমবাপের মধ্যে পরিষ্কার গোলের খিদে দেখা যাচ্ছিল। ক্রমাগত তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। আর সেই প্রচেষ্টার ফসল হিসেবেই গোল পেয়ে গেলেন তিনি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ফলাফল নিয়েই।

দ্বিতীয়ার্ধেও ফরাসি ঝড় অব্যাহত ছিল। রেলিয়েন চুয়ামেনির শট অনেকটা উপর দিয়ে উড়ে চলে যায়। তবে খেলার ৫৩ মিনিটে, ফের গোল। মাইকেল ওলিসের থ্রু বল পেয়ে ডান পায়ের শটে টপ লেফট কর্নার দিয়ে গোল করেন বারকোলা। ফ্রান্স লিড নেয় ২-০ ব্যবধানে। অন্যদিকে, ৫৭ মিনিটে, সুইডিশ মিডিও লুকাস বার্গভালের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পাল্টা ৬১ মিনিটে সুযোগ নষ্ট হয় ফ্রান্সের। মিস করেন মাইকেল ওলিস।
হাসতে হাসতে পরের রাউন্ডে ফ্রান্স
৬৬ মিনিটে আবার উপামেকানোর শট সেভ করেন সুইডেনের গোলকিপার উইডেল জেটারস্ট্রম। কিন্তু ম্যাচের ৭৪ মিনিটে, ফের গোল। মাইকেল ওলিসের থ্রু বল পেয়ে বক্সের বাঁদিক থেকে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে গোল করে যান কিলিয়ান এমবাপে। আর এই গোলের সুবাদেই তিনি চলতি বিশ্বকাপে ছুঁয়ে ফেললেন মেসিকে। দুজনেরই ৬টি করে গোল হয়ে গেল ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে। অর্থাৎ, গোল্ডেন বুটের লড়াইও জমজমাট।

অন্যদিকে, দুই দলেই বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। সুইডেনের ক্ষেত্রে লুকাস বার্গভালের পরিবর্তে বেসফোর্ট জেনেলি এবং এলিয়ট স্ট্রাউডের পরিবর্তে মাঠে নামেন তাহা আলি। অপরদিকে, ফ্রান্সের ক্ষেত্রে কৌন্ডের বদলে মালো গুস্টো জুলেস, ডেম্বেলের পরিবর্তে দেজিরে দৌ এবং লুকাস ডিগনের পরিবর্তে থিও হার্নান্দেজ মাঠে নামেন। ৮১ মিনিটের মাথায়, বারকোলার শট সেভ করেন সুইডিশ গোলকিপার। ম্যাচের শেষদিকে বেশ কিছু আক্রমণ তৈরি করার চেষ্টা করে সুইডেন। তবে গোল আসেনি।
শেষপর্যন্ত, সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে পৌঁছে গেল ফ্রান্স।
ফুটবল বিশ্বকাপের সব খবর সব আগে, শুধুমাত্র এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
