সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনই ছিল টার্গেট বাছার হাতিয়ার। একাকী ও প্রবীণদের খোঁজ নিয়ে তাঁদের আস্থা অর্জন। তারপর পরিচারিকার কাজ জোগাড় করে বাড়িতে ঢুকে খাবারে মিশিয়ে দেওয়া হত ঘুমের ওষুধ। কিন্তু এভাবে দক্ষিণ কলকাতার পাটুলির বাসিন্দা এক প্রবীণের বাড়িতে কাজ করার নামে গয়না ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরই পুলিশের জালে পড়ল সেই পরিচারিকা। হাওড়ার নিশ্চিন্দা এলাকার রাজচন্দ্রপুরের বাড়ি থেকে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় নামে ওই পরিচারিকাকে গ্রেপ্তার করেন পাটুলি থানার আধিকারিকরা।
পুলিশ জানিয়েছে, পাটুলির অশোক রোডের এক প্রবীণ একটি সংবাদপত্রে পরিচারিকার জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। গত জুলাইয়ে ওই মহিলা পাটুলিতে ওই বৃদ্ধের বাড়িতে কাজ করতে আসে। কয়েকদিনের মধে্যই সে কাজের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করে ফেলে। যদিও তার নজর ছিল, কোন আলমারিতে টাকা ও গয়না রাখা হয়। সেইমতো সুযোগ বুঝে ওই বৃদ্ধকে খাবারের সঙ্গে ওই মহিলা ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়। এর পর বৃদ্ধের ঘরের আলমারি খুলে সে কয়েক লাখ টাকা দামের সোনার পলা, দু’টি আংটি, একজোড়া কানের দুল, সোনার বোতাম ও প্রায় ২২ হাজার টাকা হাতিয়ে পালিয়ে যায়। জ্ঞান ফেরার পর বৃদ্ধ দেখেন, বাড়ি থেকে লুঠ হয়েছে টাকা ও গয়না। তিনি পাটুলি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পাটুলি থানার ওসি জয়ন্ত সরকারের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে পুলিশের টিম।
আরও পড়ুন:
এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ, মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তদন্তের পর ওই মহিলাকে শনাক্ত করা হয়। এর পরই হাওড়ায় তল্লাশি চালিয়ে ওই মহিলাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় কয়েকটি সোনার গয়না ও ঘুমের ওষুধের কয়েকটি স্ট্রিপ। পুলিশের দাবি, সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন দেখে একাকী বা প্রবীণদের চিহ্নিত করত অভিযুক্ত। কাজের সূত্রে তাঁদের বিশ্বাস অর্জন করত সে। তার পর সুযোগ বুঝে বাড়ি থেকে গয়না ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হত বলে অভিযোগ। এই চক্রে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
