৮৩ বছরের স্ত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এই অবস্থায় মানবিক দৃষ্টিকোণে ২০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন করেছিলেন নাবালিকা ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপু। যদিও সেই আবেদন খারিজ করে দিল গুজরাট হাই কোর্ট। বিকল্প হিসাবে ভিডিওকলে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার অনুমোদন দিল দুই বিচারপতির বেঞ্চ।

মামলা উঠেছিল বিচারপতি গীতা গোপি এবং এলএস পীরজাদার বেঞ্চে। স্বঘোষিত ধর্মগুরুর পক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, ৮৬ বছরের আসারামের স্ত্রীর বয়স ৮৩ বছর। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন যোধপুর জেলের কয়েদি। এই অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য ২০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চান তিনি। এরপর পুলিশের কাছে চিকিৎসকের রিপোর্ট চান দুই বিচারপতি। সেই রিপোর্ট হাতে পেয়ে জামিন খারজি করে দেয় গুজরাট হাই কোর্ট। রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হলেও চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন আসারামের স্ত্রী। আগামী দু-তিনদিনের মধ্যে হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছুটি দেওয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন:

সরকারি আইনজীবী আরও জানান, একটি মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নজরদারিতে রয়েছেন অপরাধীর স্ত্রী। পরিবারের লোকেরা তাঁর দেখভাল করছেন। ফলে জামিনের কোনও প্রয়োজন নেই। সব দিক খতিয়ে দেখে জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় দুই বিচারপতির বেঞ্চ। তবে ভিডিওকলে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত স্বঘোষিত ধর্মগুরুকে।

আরও পড়ুন:

চলতি বছরের জুন মাসে সুপ্রিম কোর্টেও স্বস্তি পাননি নাবালিকা ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত আসারাম। অসুস্থতাকে হাতিয়ার করে শীর্ষ আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি। সেই আর্জি খারিজ হয়। যদিও অতীতে প্যারোলে একাধিকবার মুক্তি পেয়েছেন এই অপরাধী।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে যোধপুরের আশ্রমে ১৬ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল আসারামের বিরুদ্ধে। এর পর ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে ইন্দোর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই মামলায় ২০১৮ সালে রাজস্থান হাই কোর্টের যোধপুর বেঞ্চ ধর্মগুরুকে দোষী সাব্যস্ত করে। তার পর থেকে যোধপুরেই জেলবন্দি রয়েছেন ৯০ বছরের আসারাম। এই মামলায় আমৃত্যু কারাবাসের সাজা দেওয়া হয় স্বঘোষিত এই ধর্মগুরুকে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *