এসি ঘর। বিশেষ খাবার। শ্যাম্পু-সাবানে নিয়মিত পরিচর্যা। স্বাভাবিক নিয়মে এটাই ছিল তার প্রতিদিনের জীবন। কিন্তু সব মুহূর্তে সব শেষ! বীরভূমের কুখ্যাত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিদেশি প্রজাতির পোষ্য সারমেয় ‘লিলি’কে নিয়ে চিন্তায় পশুপ্রেমীরা।
পুলিশের দীর্ঘ তল্লাশির পর টুলুর সুভাষপল্লির বাড়ি সিল করা হয়। বাড়িতে থাকা তিন পরিচারিকা ও তিন পরিচারকদেরও বাড়ি ছাড়তে বলা হয়। তাঁদের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে আসে বছর তিনের মাল্টিস প্রজাতির এই নারী সারমেয়টি। আপাতত তার দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছেন দীর্ঘদিনের এক পরিচারিকা। কিন্তু এক কামরার সাধারণ, এসিবিহীন বাড়িতে বিদেশি প্রজাতির এই কুকুরের প্রয়োজনীয় পরিচর্যা কীভাবে সম্ভব হবে, তা ভেবেই দুশ্চিন্তায় তিনি।
আরও পড়ুন:
গত কয়েকদিনে টুলু মণ্ডলের বিপুল বৈভবের ছবি সামনে এসেছে। চারতলা বাড়ির ভিতরে লিফট, জিমনেসিয়াম, ব্যক্তিগত থিয়েটার হল, সুইমিং পুল, বেলজিয়াম থেকে আনা কাচ এবং ইতালির মার্বেলে সাজানো সেই প্রাসাদ এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার বিষয়। সেই বিলাসিতার ছাপ ছিল তাঁর পোষ্য পালনের ধরনেও। ‘লিলি’ মাল্টিস প্রজাতির সারমেয়। ইউরোপের মাল্টা দ্বীপপুঞ্জের এই ছোট আকারের কুকুরটি সৌন্দর্য ও শান্ত স্বভাবের জন্য বিশ্বজুড়েই জনপ্রিয়। জানা যাচ্ছে, উন্নত মানের একটি মাল্টিস কুকুরছানার বাজারদর দেড় লক্ষ টাকারও বেশি হতে পারে। শুধু কিনলেই হল না। প্রতিদিনের পরিচর্যায় জন্য খরচ করতে হয় বিপুল অর্থ। পরিচারিকার কথায়, “এতদিন মালিকের বাড়িতে লিলির কোনও কিছুরই অভাব ছিল না। কিন্তু এখন সেই সব সুবিধা দেওয়া আমার পক্ষে কার্যত অসম্ভব।” ভবিষ্যতে কী হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর তাঁর কাছেও নেই।
অবুঝ লিলির ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশুপ্রেমীরা। তাঁদের বক্তব্য, টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে আইন নিজের পথে চলুক, কিন্তু তার পোষ্য কোনও অপরাধ করেনি। মালিকের অপরাধের বোঝা যেন একটি নির্দোষ প্রাণীকে বইতে না হয়। ইতিমধ্যেই কয়েকজন থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে লিলির দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও জানা গিয়েছে।আইন মেনে লিলির দায়িত্ব অন্য কারও হাতে দেওয়া যায় কিনা, তা দেখছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
