জরুরি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিবহনের ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক স্পর্শ করল ভারতীয় রেল। প্রথমবারের মতো বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মাধ্যমে একটি হার্ট সফলভাবে পরিবহন করা হয়েছে। ২০৯০১ মুম্বাই সেন্ট্রাল–গান্ধিনগর ক্যাপিটাল বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনে করে সুরাত থেকে আমেদাবাদে হৃদপিণ্ডটি নিরাপদে নিয়ে যাওয়া হয়।
জরুরি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিবহনের ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক স্পর্শ করল ভারতীয় রেল। প্রথমবারের মতো বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মাধ্যমে একটি হার্ট সফলভাবে পরিবহন করা হয়েছে। ২০৯০১ মুম্বাই সেন্ট্রাল–গান্ধিনগর ক্যাপিটাল বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনে করে সুরাত থেকে আমেদাবাদে হৃদপিণ্ডটি নিরাপদে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আমেদাবাদের ইউএন মেহতা ইনস্টিটিউট অফ কার্ডিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে এটি এক ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপন করা হবে।
আমেদাবাদ ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) বেদ প্রকাশ বলেন, “ভারতীয় রেলের জন্য এটি অত্যন্ত গর্ব ও সন্তুষ্টির বিষয় যে, বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মাধ্যমে সুরাত থেকে আমেদাবাদে একটি জীবন্ত হৃদপিণ্ড নিরাপদে ও সময়মতো পরিবহন করা সম্ভব হয়েছে। জীবন রক্ষাকারী এ ধরনের মিশনে প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও জানান যে, ভারতীয় রেল, রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ), গুজরাট পুলিশ এবং মেডিকেল টিমগুলোর মধ্যে চমৎকার সমন্বয়ের ফলেই এই মিশন সফল হয়েছে। তিনি বলেন, “মানুষের জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখা আমাদের কাছে কেবল একটি দায়িত্বই নয়, বরং সেবা ও মানবতার প্রতি এক পরম কর্তব্য।”

গ্রিন করিডোর
তিনি উল্লেখ করেন যে, অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সময়-সংবেদনশীল এই কাজটি ভারতীয় রেল, গুজরাট রাজ্য পুলিশ, আরপিএফ এবং মেডিকেল টিমগুলোর মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক সমন্বয়ের বিষয়টি তুলে ধরেছে। তিনি আরও যোগ করেন, “আমেদাবাদ রেলওয়ে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ইউএন মেহতা ইনস্টিটিউট অফ কার্ডিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার পর্যন্ত হৃদপিণ্ডটির নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবহন নিশ্চিত করতে আরপিএফ এবং গুজরাট রাজ্য পুলিশ একটি ‘গ্রিন করিডোর’ তৈরি করেছিল। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অঙ্গটি হাসপাতালে পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে এবং প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ায় কোনও দেরি হয়নি।”
৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটেই পৌঁছল অঙ্গ
হৃৎপিণ্ডটি সকাল ৯টা ১৮ মিনিটে সুরাট থেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে আমেদাবাদের হাসপাতালে পৌঁছয়। অর্থাৎ, প্রথমবারের মতো ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট সময়ে ট্রেনযোগে সুরাত থেকে আমেদাবাদে হৃৎপিণ্ডটি আনা সম্ভব হল। দক্ষিণ গুজরাটে ভারী বৃষ্টির কারণে কোনও বিমান চলাচল না করায় ভারতীয় রেলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ট্রেনে করে মানুষের অঙ্গ পরিবহন করা হল। এর আগে কখনও ট্রেনে করে মানুষের কোনও অঙ্গ পরিবহন করা হয়নি।

জীবন রক্ষাকারী এই মিশনের সাফল্যে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের গতি, সময়ানুবর্তিতা এবং নির্ভরযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বেদ প্রকাশ মন্তব্য করেন, “এই অর্জন প্রমাণ করে যে ভারতীয় রেল কেবল যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রয়োজনে জরুরি ও জীবন রক্ষাকারী স্বাস্থ্য পরিষেবায়ও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করে।”
