সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সংঘর্ষবিরতি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি ওড়ানোই হোক কিংবা শুল্কবোমার আঘাত, ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক যত মলিন হচ্ছে, তত পালটা চাল দিতে ব্যস্ত পাকিস্তান। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়ানোর লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এবার আরব সাগরে একটি বন্দর নির্মাণ ও পরিচালনার প্রস্তাব করল ইসলামাবাদ। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বেসামরিক বন্দরটি বালুচিস্তানের গোয়াদর জেলার পাসনি শহরে গড়ে উঠবে। যা কৌশলগতভাবে ইরানে ভারত কর্তৃক নির্মিত চাবাহার বন্দরের কাছাকাছি অবস্থিত। বিষয়টিকে শাহবাজ শরিফ সরকারের কৌশলী চাল হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফিনানসিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরের উপদেষ্টারা ১.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই প্রস্তাব পেশ করেছে শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে। পাসনি বন্দরে বিপুল পরিমাণ খনিজ সম্পদ রয়েছে। নীলনকশা অনুযায়ী ওই খনিজ তোলা এবং রপ্তানির ব্যবস্থা হবে আমেরিকার তৈরি ওই বন্দরের মাধ্যমে। উল্লেখ্য, অশান্ত বালুচিস্তান প্রদেশের এই শহরটি আফগানিস্তান এবং ইরানের সীমান্তবর্তী। ফলে কূটনৈতিক এবং সামরিক দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বরেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরেই সামনে এল পাসনিতে বন্দর নির্মাণ সংক্রান্ত খবর। এদিকে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল ছবিতে দেখা গিয়েছে, বৈঠকের পর ট্রাম্পকে বিরল খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ একটি কাঠের বাক্স উপহার দিচ্ছেন মুনির। কথা হল, বাস্তবেই বালুচিস্তানে আমেরিকা বন্দর গড়ে তুললে কতখানি চাপে পড়বে ভারত? পালটা কোন কৌশল নেয় নর্থ ব্লক, তাও দেখবার বিষয়।
