ছটপুজোর প্রস্তুতি ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে রাজ্যে। আগামী ১৩ থেকে ১৬ নভেম্বর পালিত হবে ছটপুজো। তার আগে কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন গঙ্গার ঘাট পরিদর্শন করে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা। ঘাটগুলিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত আলো, নিরাপদ যাতায়াত এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মন্ত্রী।

ছটপুজোর পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য একাধিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। পুকুর ও ঘাটগুলিতে অস্থায়ী রাস্তা তৈরির পাশাপাশি থাকবে চেঞ্জিং রুম, বায়ো-টয়লেট এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। ঘাটে ঘাটে টাঙানো হবে দিকনির্দেশক সাইনবোর্ড ও জরুরি যোগাযোগের নম্বর। ভিড় নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন থাকবেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। একদল পুণ্যার্থী স্নান ও পুজো সেরে উঠে যাওয়ার পর অন্য দলকে জলে নামার সুযোগ দেওয়া হবে। নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় নজরদারির ব্যবস্থাও করা হবে।

– বিজ্ঞাপন –

তবে ঘাট পরিদর্শনের থেকেও বেশি চর্চায় উঠে এসেছে রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজোর আয়োজনের ঘোষণা। অগ্নিমিত্রা জানিয়েছেন, এ বার রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করতে দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না করে পুজো বন্ধ রাখা উচিত নয়। তবে পুজোর সামগ্রী জলে ফেলে রাখা যাবে না। পুজো শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত সামগ্রী সরিয়ে নিতে হবে।

এই ঘোষণাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কারণ, ২০১৭ সালে জাতীয় পরিবেশ আদালত রবীন্দ্র সরোবর চত্বরে ছটপুজো-সহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পরে সুভাষ সরোবরের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্টও এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। ফলে শুধুমাত্র রাজ্য সরকারের ঘোষণায় দুই সরোবরে ছটপুজোর আয়োজন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এ দিকে, রবীন্দ্র সরোবর বাঁচাও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত পরিবেশকর্মীদের একাংশের আপত্তি, সরোবরের জল ও বাস্তুতন্ত্র এমনিতেই দূষণের সমস্যায় জর্জরিত। সেখানে ছটপুজোর আয়োজন হলে ফুল, পুজোর সামগ্রী এবং অন্যান্য বর্জ্যের কারণে দূষণ আরও বাড়তে পারে। পরিবেশকর্মী সৌমিত্র মোহন ঘোষের বক্তব্য, বিষয়টি রাজ্যের পরিবেশ দপ্তরের গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। সরোবরের পরিবেশ সংবেদনশীল চরিত্র এবং আদালতের নির্দেশ কোনওভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।

যদিও অগ্নিমিত্রা বারবার জানিয়েছেন, পরিবেশের ক্ষতি করে কোনও উৎসব পালন করতে দেওয়া হবে না। পুজোর আগে ও পরে ঘাট এবং জলভাগ পরিষ্কারের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরোবরে পুজোর আয়োজনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিবেশ আদালতের সঙ্গে আলোচনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *