এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিদিনের ওষুধের পাশাপাশি বিভিন্ন চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে। সেই গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন লেনাক্যাপাভির। এটি দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতাসম্পন্ন একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ, যা বছরে দু’বার ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা যায়। নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার ঝক্কি কমিয়ে এই পদ্ধতি এইচআইভি প্রতিরোধে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
আমেরিকার ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা গিলিয়াড সায়েন্সেসের তৈরি এই ওষুধটির বাণিজ্যিক নাম ‘ইয়েজটুগো’। ২০২৫ সালের ১৮ জুন এইচআইভি প্রতিরোধে ব্যবহারের জন্য লেনাক্যাপাভিরকে অনুমোদন দেয় আমেরিকার FDA। প্রাপ্তবয়স্ক এবং নির্দিষ্ট ওজনের ঝুঁকিপূর্ণ কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে যৌন সংসর্গের মাধ্যমে HIV-1 সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এটি ব্যবহার করা যাবে। investors.gilead.com+1
– বিজ্ঞাপন –
কী ভাবে কাজ করবে এই ইঞ্জেকশন?
লেনাক্যাপাভিরের বিশেষত্ব হল, এটি HIV ভাইরাসের ক্যাপসিড প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কাজ করে। ক্যাপসিড হল ভাইরাসের জিনগত উপাদানকে ঘিরে থাকা প্রোটিনের আবরণ। ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি এবং সংক্রমণের প্রক্রিয়ায় এই প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লেনাক্যাপাভির সেই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে। ফলে শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি কমে।
এই ওষুধটি মূলত PrEP বা প্রি-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস হিসেবে ব্যবহৃত হবে। অর্থাৎ যাঁরা এখনও HIV-তে আক্রান্ত নন, কিন্তু সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এটি প্রয়োগ করা যায়।
বছরে দু’বার ইঞ্জেকশন, তবে রয়েছে শর্ত
বিজ্ঞাপন
FDA-র অনুমোদিত চিকিৎসাপদ্ধতি অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে ইঞ্জেকশনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট নিয়মে মুখে খাওয়ার ওষুধ নিতে হয়। তার পর প্রতি ছ’মাস অন্তর একটি করে ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। তবে এই চিকিৎসা শুরুর আগে এবং পরবর্তী প্রতিটি ডোজ়ের আগে HIV পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। কারণ, ইতিমধ্যে সংক্রমিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই ওষুধ এককভাবে চিকিৎসার বিকল্প নয়। FDA Access Data+1
ভারতে কবে পাওয়া যাবে?
লেনাক্যাপাভিরের জেনেরিক সংস্করণ তৈরির জন্য ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর গিলিয়াড সায়েন্সেসের সঙ্গে স্বেচ্ছামূলক লাইসেন্স চুক্তি করে হায়দরাবাদের ডক্টর রেড্ডি’জ় ল্যাবরেটরিজ়। এই চুক্তির আওতায় ভারত-সহ ১২০টি দেশে ওষুধটি তৈরি ও বাজারজাত করার অধিকার পেয়েছে সংস্থাটি। তবে তার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন। Dr. Reddy’s+1
গিলিয়াডের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জেনেরিক ওষুধের বৃহৎ পরিসরে সরবরাহ ২০২৭ সালে শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ফলে আমেরিকায় FDA-র অনুমোদন মিললেও ভারতে কবে থেকে এই ওষুধ পাওয়া যাবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। Gilead
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-ও ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এইচআইভি প্রতিরোধের অতিরিক্ত বিকল্প হিসেবে বছরে দু’বার লেনাক্যাপাভির ব্যবহারের সুপারিশ করেছে। তবে মনে রাখতে হবে, এই ইঞ্জেকশন অন্যান্য যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধ করে না। তাই HIV প্রতিরোধের পাশাপাশি অন্যান্য সুরক্ষাবিধিও মেনে চলা জরুরি।
