দুয়ারে কড়া নাড়ছে দুর্গাপুজো। শহরজুড়ে চলছে উমা আগমনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। এমন আবহেই মুম্বই থেকে কলকাতায় উড়ে এলেন রুক্মিণী মৈত্র। উপলক্ষ, খ্যাতনামা প্রসাধনী সংস্থার বিজ্ঞাপনী প্রচার হলেও অভিনেত্রীর আদ্যোপান্ত বাঙালিয়ানা মন কি আর এমন সময়ে মায়ানগরীতে থাকে? অতঃপর পুজোর প্রাক্কালে শহরে ঢুঁ মেরেই রুক্মিণীর প্রথম কথা, “ইউ ক্যান টেক আ গার্ল আউট অফ দ্য বেঙ্গল, বাট ইউ কান্ট টেক বেঙ্গল আউট অফ দ্য গার্ল…।” বাংলায় যার তর্জমা করলে দাঁড়ায়, বঙ্গকন্যাকে বাংলা থেকে বের করে নিয়ে যেতে পারো কিন্তু তাঁর মন থেকে বাঙালিয়ানা কীভাবে কেড়ে নেবে?
খিলাড়ির আসন্ন সায়েন্স-ফিকশন ছবি ‘শামুক’-এর মুখ্য ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। তার প্রাক্কালেই কলকাতায় এসে পুজোর পরিকল্পনা ভাগ করে নিলেন রুক্মিণী মৈত্র।
আরও পড়ুন:
বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে একুশ সালেই ‘সনক’ সিনেমার সুবাদে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ‘অভিনেত্রী’ হিসেবে শিকে ছিড়েছিলেন। বর্তমানে মুম্বইয়ের পাকাপাকি বাসিন্দা রুক্মিণী মৈত্র। কর্মসূত্রে মাঝেমধ্যে কলকাতায় যাতায়াত থাকলেও এখন সিংহভাগ সময়টা মায়ানগরীতেই কাটান তিনি। শুধু কি তাই? এবার অক্ষয় কুমারের নায়িকা হিসেবে বলিউডের পিচে নতুন ইনিংস শুরু করতে চলেছেন তিনি। খিলাড়ির আসন্ন সায়েন্স-ফিকশন ছবি ‘শামুক’-এর মুখ্য ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। তার প্রাক্কালেই কলকাতায় এসে পুজোর পরিকল্পনা ভাগ করে নিলেন রুক্মিণী মৈত্র। অভিনেত্রী জানালেন, ‘দেখলাম পুজো আসছে, তার মানেই শপিং করতে হবে।’ বিশিষ্ট প্রসাধনী সংস্থার প্রচারের পাশাপাশি পুজোর কেনাকাটি করতে কলকাতায় এসেছেন তিনি।

“আমার কাছে অষ্টমী মানেই, লালপেড়ে সাদা একটা ট্র্যাডিশনাল শাড়ি পরে অঞ্জলি দিতেই হবে।…”
দুর্গাপুজোর ক’টা দিন কী করবেন? রুক্মিণী জানালেন, “পুজোয় আমার দাদা, আমার ভাইঝি আমায়রা কলকাতাতেই থাকবে। গোটা পরিবারের সঙ্গে একটু তো প্যান্ডেল হপিং হবেই।” আসলে পুজো মানেই তো আড্ডা, কাছের মানুষকে আরও কাছে পাওয়া। ফি বছর এইসময়টা নিয়ম করে দাদা-বউদি, মায়ের সঙ্গে সময় কাটান রুক্মিণী মৈত্র। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না। তবে এবার দিল্লি-কলকাতা করে নয়। বরং গোটা সময়টাই কলকাতায় কাটাবেন তিনি। আর শপিং? এপ্রসঙ্গে পরিবারের, বিশেষ করে মায়ের তৈরি করা একটা নিয়ম ভাগ করলেন রুক্মিণী। নায়িকা জানালেন, “ছোট থেকে মায়ের একটা নিময় আছে, অষ্টমীর অঞ্জলি শাড়ি পরে দেওয়া। আর সেই শাড়িটা মা-ই কিনে দেয়। আমার কাছে অষ্টমী মানেই, লালপেড়ে সাদা একটা ট্র্যাডিশনাল শাড়ি পরে অঞ্জলি দিতেই হবে।” এর আগে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, শৈশবে তাঁর বাড়িতেই বন্ধুবান্ধবরা মিলে সদলবলে পুজোর কটা দিন আড্ডা বসাতেন। সেসময়ে রুক্মিণীর মা তাঁদের মা-ও হয়ে উঠতেন। অতঃপর পুজোর ক’টা দিন লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনের দুনিয়ার ব্যস্ততা সরিয়ে রুক্মিণী যে আদ্যোপান্ত পারিবারিক সময় কাটান, তা বলাই বাহুল্য।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
