ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে মঙ্গলবার নয়াদিল্লি পৌঁছলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নিশানায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। জনগণের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের বৈঠকে যোগ দিতে মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিরোধীদের মূল টার্গেট হলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর অভিযোগ, এই ব্যক্তি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মমতা বলেন, “আমরা এখানে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে এসেছি। আমাদের টার্গেট হলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং তাঁর পুরো সফটওয়্যার টিম। এরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে জালিয়াতি করেছে। আমরা তো ওঁকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ (সিইসি জ্ঞানেশ কুমার) বলে ডাকছি।”

কাল ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের এই বৈঠকে যোগ দেবেন। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে কীভাবে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে বিরোধী নেতারা এই বৈঠকে আলোচনা করবেন বলে খবর।

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি অনুসন্ধানী রিপোর্টের পর এই রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। যদিও নির্বাচন কমিশন এই আপত্তির কথা উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, কমিশনের অন্দরে কোনও মতবিরোধ নেই। এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত কমিশনের সর্বসম্মত অনুমোদনের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। এদিকে, আজ নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং বর্ষীয়ান নেত্রী সোনিয়া গান্ধী-সহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি (CWC) মঙ্গলবার অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির (AICC) সদর দফতরে আয়োজিত এই বৈঠকে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব পাশ করেছে। তাদের মূল দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা এবং তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩ কোটি ৩০ লক্ষ নাম পুনরায় ফিরিয়ে আনার দাবিও জানিয়েছে কংগ্রেস। সিডব্লিউসি জানিয়েছে, বর্তমান সিইসি-র অধীনে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) মদতে আরএসএস-বিজেপি (RSS-BJP) যেভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া দখল করছে বলে খবর আসছে, তা “আমাদের গণতন্ত্রের জন্য চরম বিপজ্জনক”। আর সেই বিপদ নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কংগ্রেসের দাবি, এই ঘটনাগুলি প্রমাণ করে যে রাহুল গান্ধী ‘ভোট চুরি’ নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, তা একেবারেই সঠিক। আদর্শ আচরণবিধির পক্ষপাতদুষ্ট প্রয়োগ, ইভিএমের (EVM) স্বচ্ছতা, ভোটার তালিকায় নাম তোলা ও বাদ দেওয়া, সিইসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বদল এবং সিইসি-কে আজীবন আইনি রক্ষাকবচ দেওয়ার মতো বিষয়গুলি নিয়ে রাহুল গান্ধী যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, দল আজ সেই কথাগুলোই ফের মনে করিয়ে দিয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *