কলকাতা: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে আরও জটিল হল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের আইনি পরিস্থিতি। গ্রেফতারির পর এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা পাঁচটি মামলায় coercive action থেকে সুরক্ষা চেয়ে করা আবেদনের শুনানি মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা।
মিলন প্রধানকে ১৮ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন-সংক্রান্ত পুরনো মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে থাকা বকেয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ করা হয়। ওই মামলাগুলিতে খুন, খুনের চেষ্টা, অপহরণ-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
– বিজ্ঞাপন –
এর আগে হলদিয়া আদালত তাঁকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছিল। পরে আরও একটি মামলায় তাঁকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মিলন প্রধানের আইনজীবী হাই কোর্টে জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলা রয়েছে এবং সেই মামলাগুলিতে coercive action থেকে সুরক্ষা চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য আবেদনটি গ্রহণ করে মঙ্গলবার শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এই আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ নন্দীগ্রামে ভোট ৬ অক্টোবর। নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিন ৪ অক্টোবর। ফলে আদালতের পরবর্তী নির্দেশের উপর প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে।
মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলি ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়কার বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানায় ওই সময় একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল। তবে মামলায় থাকা অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।
বিজ্ঞাপন
এদিকে নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের প্রচারও শুরু হয়েছে। মিলন প্রধান জেল হেফাজতে থাকায় তাঁর ছবি নিয়ে প্রচারে নামার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কংগ্রেস। তাঁর স্ত্রী অর্পিতা প্রধানও প্রচারে অংশ নিচ্ছেন বলে রিপোর্ট হয়েছে।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই বদলেছে। তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছিলেন। এরপরই মিলন প্রধান গ্রেফতার হন। এই ঘটনাক্রম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে।
এখন নজর মঙ্গলবারের কলকাতা হাই কোর্টের শুনানির দিকে। আদালত মিলন প্রধানের আবেদনে কী নির্দেশ দেয়, তার উপর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে তাঁর আইনি ও নির্বাচনী পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
