হাইকোর্ট

ছবির উৎস, MUNIRUZ ZAMAN

ছবির ক্যাপশান, কোন কর্মঘট বা হরতাল ডাকলে বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে যে কোন ধরনের স্ট্রাইক বা হরতাল ডাকাকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। এ ধরনের কোন কর্মঘট বা হরতাল ডাকলে বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এক রায়ে এই আদেশ দিয়েছে।

আদালত রায় বলেছে, সংবিধানের আর্টিকেল ১১২ অনুসারে আদালতের রায় সকলের জন্য বাধ্যতামূলক কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলেও রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থী।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ এর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

এতে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের অগাস্টে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে একটি গাড়ির আরোহী তারেক মাসুদ, মিশুক মনিরসহ পাঁচজন নিহত হয়। ওই ঘটনায় বাসচালুকের বিরুদ্ধে মামলা হলে ২০১৭ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ড্রাইভারকে সাজা দেয়।

এই সাজার বিরুদ্ধে পরিবহন ধর্মঘট ও হরতাল করে বাস মালিক ও শ্রমিকরা। পরে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিট পিটিশন দায়ের করে।

ওই রিট পিটিশনের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের পহেলা মার্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল আহবান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।

আদালত এক অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ধর্মঘট বা হরতাল প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেয় এবং গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নির্দেশের প্রেক্ষিতে পরের দিন পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।

ওই রুলের শুনানি শেষে রোববার আদালত রুলটি যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেয়।

রায়ে আদালত, আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে স্বরাষ্ট্র সচিব, বিআরটিএ, বিআরটিসিকে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ফৌজদারী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে।

শুনানীতে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, সংবিধানের আর্টিকেল ১১২ অনুসারে যে কোনো রায় ও নির্দেশনা মানতে সকল কর্তৃপক্ষ বাধ্য কিন্তু দুর্ঘটনার কারণে ড্রাইভারকে সাজা দেয়ার প্রেক্ষিতে মালিকরা পরিবহন ধর্মঘট ডেকে আদালতের আদেশের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়েছেন। শুধু তাই নয় সকল নাগরিকের চলাচলের স্বাধীনতা যেটি মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সেটা বাধা গ্রস্থ হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *