ধর্মতলার বিধানচন্দ্র রায় মার্কেট, যা শহরবাসীর কাছে বিধান মার্কেট নামেই বেশি পরিচিত, সেখানে জোকা-ধর্মতলা মেট্রো প্রকল্পের কাজ শুরুর ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা রইল না। তবে মেট্রোর কাজের জন্য দোকানদারদের সরানোর ক্ষেত্রে তাঁদের দাবি ও পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখল কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চ জানিয়েছে, আপাতত মার্কেট এলাকা থেকে দোকানদারদের অস্থায়ী ভাবে অন্যত্র সরানো যেতে পারে। তবে তার আগে একাধিক শর্ত পূরণ করতে হবে।

আদালতের নির্দেশ, মেট্রো প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে লিখিত ভাবে জানাতে হবে যে, প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট দোকানদারদের তাঁদের পুরনো জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, অস্থায়ী ভাবে যে জায়গায় তাঁদের সরানো হবে, সেখানে ন্যূনতম পরিষেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জল, বিদ্যুৎ-সহ প্রয়োজনীয় পরিষেবা এবং নিরাপত্তার যথাযথ বন্দোবস্ত করার পরেই দোকানদারদের সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে।

– বিজ্ঞাপন –

প্রথমে আগামী বুধবার থেকেই দোকানদারদের সরানোর কথা জানানো হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে আদালত সাত দিন সময় দিয়েছে। ফলে হাই কোর্টের নির্ধারিত শর্তগুলি পূরণ না করে তড়িঘড়ি করে দোকানদারদের সরানো যাবে না।

মামলাকারী দোকানদারদের বক্তব্য, ১৯৫৪ সালে প্রতিরক্ষা দফতরের জমির উপর বিধান মার্কেট তৈরি হয়। বর্তমানে এটি ধর্মতলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাজার। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ব্যবসা করে আসছেন বহু দোকানদার। তাঁদের অভিযোগ, কোনও লিখিত প্রতিশ্রুতি বা পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা ছাড়াই নির্মাণ সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁদের সরিয়ে দিতে চাইছিল।

এই পরিস্থিতিতেই তাঁরা কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। মামলাকারীদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এবং গোপা বিশ্বাস। তাঁদের বক্তব্য ছিল, মেট্রো প্রকল্পের কাজের স্বার্থে সাময়িক ভাবে দোকান সরানো নিয়ে আপত্তি নেই, কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর তাঁদের পুরনো জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে—এই বিষয়ে স্পষ্ট লিখিত নিশ্চয়তা প্রয়োজন।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিধান মার্কেটের দোকানদারদের আপাতত মাউন্টেড পুলিশ প্যাডক এলাকায় অস্থায়ী ভাবে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেখানে প্রয়োজনীয় পরিষেবা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরেই সেই প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

ফলে মেট্রো প্রকল্পের কাজ শুরুর পথ খুললেও, দোকানদারদের পুনর্বাসনের বিষয়টিকে কার্যত আইনি সুরক্ষা দিল হাই কোর্ট। প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের স্বার্থও যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, সে দিকেই গুরুত্ব দিয়েছে আদালত।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *