প্রস্রাব করার পর কমোডে ফেনা দেখা গেলে অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে যান। কখনও দ্রুত প্রস্রাবের প্রবাহ বা শরীরে জলের ঘাটতির কারণে সাময়িক ভাবে ফেনা হতে পারে। কিন্তু নিয়মিত বা অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব দেখা গেলে বিষয়টি নজরে রাখা জরুরি। কারণ এর পিছনে কিডনি বা অন্য কোনও স্বাস্থ্যসমস্যাও থাকতে পারে।
প্রস্রাবে প্রোটিন: ফেনাযুক্ত প্রস্রাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল প্রোটিনুরিয়া, অর্থাৎ প্রস্রাবে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি প্রোটিন চলে আসা। কিডনি ঠিক ভাবে কাজ না করলে এমন হতে পারে। ডায়াবেটিস বা কিছু অটোইমিউন রোগের ক্ষেত্রেও প্রোটিনুরিয়া দেখা দিতে পারে।
– বিজ্ঞাপন –
জলের ঘাটতি: শরীরে পর্যাপ্ত জল না থাকলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়। ফলে প্রস্রাবের সময় সাময়িক ভাবে বেশি ফেনা দেখা যেতে পারে। পর্যাপ্ত জল পান করার পরও যদি সমস্যা থেকে যায়, তা হলে অন্য কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কিডনির সমস্যা: গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস, নেফ্রোটিক সিনড্রোমের মতো কিছু কিডনি রোগে প্রস্রাবে অতিরিক্ত প্রোটিন যেতে পারে। তার ফলেও ফেনাযুক্ত প্রস্রাব দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডায়াবেটিস: দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিডনির ক্ষতি করতে পারে। কিডনির এই ক্ষতির ফলে প্রস্রাবে প্রোটিনের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে এবং ফেনা দেখা দিতে পারে।
মূত্রনালির সংক্রমণ: কিছু ক্ষেত্রে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউটিআইয়ের সঙ্গেও প্রস্রাবের চেহারায় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তবে সাধারণত প্রস্রাবে জ্বালা, বারবার প্রস্রাবের বেগ, তলপেটে অস্বস্তি বা দুর্গন্ধের মতো উপসর্গও থাকতে পারে।
বিজ্ঞাপন
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন হতে পারে। তাই নিয়মিত কোনও ওষুধ খেলে নিজের মতো করে তা বন্ধ না করে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।
কী করবেন?
সাময়িক ভাবে ফেনা দেখা দিলে পর্যাপ্ত জল পান করা এবং বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বা বারবার ফেনাযুক্ত প্রস্রাব হলে শুধু ঘরোয়া উপায়ে সমস্যা সারানোর চেষ্টা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রয়োজনে চিকিৎসক ইউরিন টেস্ট, প্রস্রাবে প্রোটিনের পরীক্ষা, রক্তের পরীক্ষা বা কিডনির কার্যকারিতা যাচাইয়ের মতো পরীক্ষা করতে পারেন। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব।
তাই এক-দু’বার ফেনা দেখে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ফেনা যদি নিয়মিত হয়, বাড়তে থাকে বা অন্য কোনও উপসর্গের সঙ্গে দেখা দেয়, তা হলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
