তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। বাড়ি গাড়ি, ঠাঁটবাট সবই আছে। অথচ তিনিই কেন্দ্র সরকারের কাছ থেকে প্রায় ৯৯ লক্ষ টাকা ভরতুকি পেয়েছেন। তাও নিজের দপ্তর থেকেই। কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী ভগীরথ চৌধুরীর এই কীর্তি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বলছেন, ‘এ তো দুর্নীতির নয়া ধরন।’
জানা গিয়েছে কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী জাতীয় উদ্যানপালন বোর্ডের অধীন একটি প্রকল্পে ৯৯ লক্ষ ৩ হাজার টাকা ভরতুকি পেয়েছেন। বিতর্কের সূত্রপাত সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন ঘিরে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ‘মিশন ফর ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অব হর্টিকালচার’ প্রকল্পে শসা চাষের জন্য ৯৯.০৩ লক্ষ টাকার সরকারি আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন ভগীরথ চৌধুরী। সাধারণত এই প্রকল্পের আওতায় শসা, ক্যাপসিকাম বা টমেটো চাষের জন্য মোট খরচের ৫০ শতাংশ বা পরিবার পিছু সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেয় কেন্দ্র। মজার কথা হল, এই ভরতুকি দেওয়ার ব্যাপারটা যে বোর্ড নিয়ন্ত্রণ করে, পদাধিকার বলে সেই ন্যাশনাল হর্টিকালচার বোর্ডের সভাপতি মন্ত্রীমশাই নিজেই। ভগীরথ চৌধুরী নিজে মন্ত্রী থাকাকালীনই ২০২৫ সালে ওই বিরাট অঙ্কের ভরতুকি পেয়েছেন।
আরও পড়ুন:
এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই একযোগে সরব বিরোধীরা। কংগ্রেস নেতা পবন খেড়া বলছেন, “ভগীরথ চৌধুরী নিজেই এখানে আবেদনকারী, নিজেই মঞ্জুরকারী আর নিজেই উপভোক্তা, সব এক অঙ্গে তিন রূপ। এর চেয়ে বড় লুঠ আর কী হতে পারে? ” অশোক গেহলট বলছেন, “দুর্নীতির নয়া স্টাইল আমদানি করেছেন মন্ত্রীমশাই।” সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাসের বক্তব্য, “এটা ডিবিটি নয়, ডিএফটি, ডাইরেক্ট ফ্যামিলি ট্রান্সফার।” তৃণমূলের সাগরিকা ঘোষের বক্তব্য, “মোদি সরকার দুর্নীতির জালে জড়িয়ে পড়ছে। সব দিক থেকে জল গলা শুরু করেছে।”
তবে এসবে ভ্রূক্ষেপ নেই মন্ত্রীমশাইয়ের। তিনি ভরতুকির ব্যাপারটা অস্বীকার করছেন না। তাঁর সাফ কথা,”আমি একজন কৃষক। ছোটবেলা থেকে চাষের কাজে যুক্ত। নিয়ম মেনেই ভরতুকি নিয়েছি।” মন্ত্রীর দাবি, তিনি সেই ২০১৮ সালে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। তারপর প্রক্রিয়া শেষ হতে হতে ২০২৫-এ গিয়ে ভরতুকি পেলেন। এতে সমস্যা বা দুর্নীতির কিছু নেই। সবটাই হয়েছে নিয়ম মেনে। যদিও তাতে বিতর্ক থামছে না। বিরোধীরা প্রশ্ন করছে, ৭ বছর আগের শশা চাষের ভরতুকি এতদিন বাদে পান কী করে মন্ত্রী?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
