ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের তিন দিন পরও ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জোরালো অভিযান চলছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ৫১ হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গত বুধবার রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল, যেটিকে ইতোমধ্যে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করেছে সরকার।

উদ্ধার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে শুক্রবার রাত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি উদ্ধার তৎপরতা পর্যাপ্ত না হওয়ায় অনেক স্থানীয় বাসিন্দা খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।

সরকার জানিয়েছে, বিশেষ অনুমতি ছাড়া লা গুয়াইরা এলাকায় প্রবেশ করা যাবে না। তবে কারা সেই অনুমতি পাবেন, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্গত এলাকায় সরকারি উদ্ধারকারী দলের উপস্থিতি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। যদিও সরকার দাবি করেছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে।

ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, ‘এখন প্রতিটি প্রাণ রক্ষা করা অলৌকিক ঘটনার মতো। আমরা এই ট্র্যাজেডির ভয়াবহতা আড়াল করব না।’

অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ সক্ষমতা কাজে লাগিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও মানবিক সহায়তাকে স্বাগত জানিয়েছে।

এদিকে শনিবার জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে সরাসরি আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪ দশমিক ৭ থেকে ৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে।

একই দিনে আরাগুয়া রাজ্যে রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি ভূকম্পন অনুভূত হলেও এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের অনেকেই মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আশঙ্কা করছে, রাজধানী কারাকাসসহ প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যামি পোপ এক বিবৃতিতে বলেন, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি ভেনেজুয়েলার মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *