কলকাতা: এবার কি লোকসভায় তৃণমূল দুই ভাগ হচ্ছে? সেখানেও কি ‘ঋতব্রত মডেল’? সূত্রের খবর, তৃণমূলের ১৮ জন সাংসদ আগামী ৮ জুন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করবেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা মানতে না চেয়ে চিঠি দেবেন। আর বিক্ষুব্ধ সাংসদদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করার পর লোকসভায়ও ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৃণমূলের।
গত ৪ মে রাজ্যে পালাবদলের পরই তৃণমূলের অন্দরে ডামাডোল শুরু হয়। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ৮০টি আসনে জিতেছে। তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে ‘বিদ্রোহী’ হয়ে ওঠেন জনা ষাটেক বিধায়ক। ঋতব্রতকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা করার দাবি জানিয়ে স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দেওয়া হয়। তৈরি হয় ‘নব তৃণমূল মঞ্চ’।
বিধানসভায় ভাঙনের পর এবার লোকসভায়ও তৃণমূলে ভাঙন হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। আর এর নেতৃত্বে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বিধানসভা নির্বাচনে ফল ঘোষণার পর থেকে একাধিকবার সরব হয়েছেন বারাসতের সাংসদ। লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ থেকে তাঁকে সরানোর পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন তিনি। তারপর একাধিকবার মুখ খুলেছেন।
আর বিধানসভায় ‘ঋতব্রত মডেল’-র লোকসভায় তৃণমূলের অন্দরে এমন কোনও বিভাজন দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছে। লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় ২৯টি আসনে জিতেছিল তৃণমূল। তবে লোকসভার ফল ঘোষণার কয়েক মাসের মধ্যে তৃণমূল সাংসদ শেখ হাজি নুরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। এই আসনে এখনও উপনির্বাচন হয়নি। ফলে এই মুহূর্তে তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ সংখ্যা ২৮। ফলে লোকসভার দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ ‘বিক্ষুব্ধ’ হলে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারবে না তৃণমূল। কাকলির সঙ্গে কে কে রয়েছেন, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।
বিধানসভার পর লোকসভায়ও তৃণমূলের ভাঙনের সম্ভাবনা নিয়ে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা বলেন, “আমি বারবার বলছিলাম, তৃণমূলের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না। শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একা থাকবেন। ভাইপো জেলে থাকবেন।” তাঁদের দলের দরজা কি তৃণমূলের এইসব নেতাদের জন্য খোলা রয়েছে? উত্তরে রাহুল সিনহা বলেন, “এখন তো তৃণমূল নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বেই ব্যস্ত। আর আমরাও তো আপাতত আমাদের দরজা বন্ধ রেখেছি।”
