অবশেষে জল্পনার অবসান। কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। শুক্রবার কলকাতা পুরসভায় এক সাংবাদিক বৈঠকে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন তিনি। একই সঙ্গে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফাপত্রও জমা দেন।
২০১৮ সালে কলকাতার ৩৮তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ফিরহাদ। তারপর দীর্ঘ প্রায় সাড়ে সাত বছর ধরে তিনি মহানাগরিকের দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর আমলেই কলকাতা পুরসভার একাধিক পরিকাঠামোগত প্রকল্প, রাস্তা সংস্কার, জল সরবরাহ এবং নগর উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে। আবার তাঁরই সময় নানা অভিযোগও ওঠে দুর্নীতির। মেটিয়াবুরুজে বেআইনি নির্মাণ ভেঙে পড়ে তাঁই সময়ে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে তাঁর পদত্যাগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
– বিজ্ঞাপন –
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই দলের অন্দরে নানা টানাপোড়েন সামনে এসেছে। সেই আবহে বারবার শোনা যাচ্ছিল, কলকাতার মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন ফিরহাদ। যদিও এতদিন তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। শুক্রবার সেই জল্পনাই বাস্তবে পরিণত হল।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তার প্রভাব পড়েছে কলকাতা পুরসভাতেও। সম্প্রতি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফিরহাদের বৈঠক এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়েও জোর আলোচনা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়।
ইস্তফা দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘ফিরহাদ হাকিম কেউ নয়। যে চেয়ারটায় প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিরা বসেছেন তার একটা সম্মান আছে। মানুষ প্রচুর যাঁরা আসতেন, তাঁদের রিলিফ দেওয়ার কাজ করেছি। এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সেই চেয়ারটাকে অবমাননা করতে পারি না। চেয়ার ধরে বসে থাকব, অথচ ঢাল নেই, তরোয়াল নেই, নিধিরাম সর্দার। তাই আমি ঠিক করেছি। ইস্তফা দিলাম। আগামিদিনে যাঁরা পুরসভা চালাবেন, তাঁরা আমার থেকেও হয়তো ভালো কাজ করবেন। হয়তো লোকে আমাকে ব্যঙ্গ করবেন, সমালোচনা করবেন। কিন্তু স্বচ্ছভাবে পুরসভা চালিয়ে মানুষকে পরিষেবা দেওয়া সহজ কাজ নয়। হয়তো এখন চেয়ারের মর্যাদা রাখতে পারছি না। তাই আমাদের নেত্রীর কাছে ইস্তফা চেয়েছিলাম। উনি বলেছেন, ঠিক আছে।’
ফিরহাদের পদত্যাগের ফলে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব আপাতত পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের হাতেই থাকবে। পরবর্তী সময়ে রাজ্য সরকার প্রশাসক নিয়োগ করতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পুরসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই সময়সূচি পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
ফিরহাদ হাকিম শুধু কলকাতার মেয়র নন, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত মুখও। ফলে তাঁর পদত্যাগকে নিছক প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বরং তাঁরা মনে করছেন, এটি রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
এখন নজর থাকবে কলকাতা পুরসভার পরবর্তী নেতৃত্ব কে গ্রহণ করেন এবং এই পদত্যাগের রাজনৈতিক অভিঘাত কতটা গভীর হয়, তার দিকে।
