ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার (ফরেক্স রিজার্ভ) রক্ষা করতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) বিপুল পরিমাণ সোনা বিক্রি করেছে বলে সম্প্রতি যে দাবি সামনে এসেছিল, তা সম্পূর্ণভাবে খারিজ করল কেন্দ্রীয় সরকার এবং আরবিআই।

সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, আরবিআই প্রায় ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সোনা বিক্রি করেছে। প্রতিবেদনে অর্থনীতিবিদ অভিষেক গুপ্তার বিশ্লেষণ উদ্ধৃত করে বলা হয়, ২২ মে পর্যন্ত দুই সপ্তাহে আরবিআই প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সোনা বিক্রি করেছে এবং একই সময়ে প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদ কিনেছে।

তবে এই দাবি প্রকাশ্যে আসতেই কেন্দ্রীয় সরকার ফ্যাক্ট-চেক করে জানায়, আরবিআইয়ের সোনার অংশীদারিত্ব বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে কমেনি, বরং বেড়েছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে ভারতের ফরেক্স রিজার্ভে সোনার অংশ ছিল ১৩.৯২ শতাংশ। তা ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ বেড়ে হয়েছে ১৬.৭০ শতাংশ এবং ২২ মে পর্যন্ত আরও বৃদ্ধি পেয়ে ১৬.৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

আরবিআইও পৃথক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের সোনার ভৌত মজুত (Physical Gold Stock) অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে আরবিআইয়ের কাছে মোট ৮৮০.৫২ টন সোনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের একটি অংশে সোনা বিক্রির যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।

সরকার আরও জানিয়েছে, আরবিআই তার মাসিক বুলেটিনে নিয়মিতভাবে সোনার প্রকৃত মজুতের তথ্য প্রকাশ করে থাকে। তাই এই ধরনের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য আরবিআইয়ের সরকারি ওয়েবসাইটই অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, চলতি সপ্তাহেই দেশের ব্যাঙ্ক আমানত সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে আরবিআই। সেখানে দেখা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে ভারতীয়দের সঞ্চয়ের ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে। কম সুদের সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে মানুষ ক্রমশ বেশি সুদ পাওয়া টার্ম ডিপোজিট বা নির্দিষ্ট মেয়াদি আমানতের দিকে ঝুঁকছেন।

আরবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের মার্চ মাসে মোট ব্যাঙ্ক আমানতের ৩৪.৬ শতাংশ ছিল সেভিংস ডিপোজিট। ২০২৬ সালের মার্চে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৮.৭ শতাংশে। বিপরীতে, একই সময়ে টার্ম ডিপোজিটের অংশ ৫৫.২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬১.৬ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মানুষ এখন সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি রিটার্নের দিকে নজর দিচ্ছেন। ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার প্রসার এবং উচ্চ সুদের হারও এই প্রবণতাকে আরও জোরদার করেছে। ফলে শুধুমাত্র টাকা জমিয়ে রাখার বদলে নিরাপদ বিনিয়োগে বেশি লাভ পাওয়ার দিকেই ঝুঁকছেন আমানতকারীরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *