ছবির উৎস, Tnani Badreddine/Defodi Images via Getty Images
-
- Author, সৈয়দ ফায়েজ আহমেদ
- Role, অতিথি লেখক
-
Published
-
পড়ার সময়: ৮ মিনিট
বিশ্বকাপ আসলে যেসব দেশ নিয়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আলোচনা বা মাতামাতি হয়, তার একটি আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনার জন্য এই ভালোবাসার শুরুটা হয়েছিল অবশ্য ১৯৮৬ সালে, ডিয়েগো ম্যারাডোনার জন্য।
এর বাঁধভাঙ্গা রুপ দেখা যায় চার বছর পর ইতালি বিশ্বকাপে। সেবার বেশ দুর্বল একটা দল নিয়েই ফাইনাল পর্যন্ত উঠে যায় ম্যারাডোনার আলবিসেলেস্তরা। কিন্তু, সেইদিন মেক্সিকোর রেফারি এদগার্দো কোডেসাল খেলার ৮৫ মিনিটে একটি বিতর্কিত পেনাল্টি দিলে তা থেকে খেলার একমাত্র গোলটি দেন পশ্চিম জার্মানীর আন্দ্রেস ব্রেহমে। ম্যারাডোনার টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়।
ঠিক ৩৬ বছর পর ম্যারাডোনার উত্তরসূরি মেসির সামনে সুযোগ এসেছে ম্যারাডোনা যা পারেননি তা করার। টানা দুইটা বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ।
বিশ্বকাপ চলাকালে ৩৯ বছর পূর্ণ করা মেসির জন্য এই বিশ্বকাপটি প্রায় নিশ্চিতভাবেই শেষ আসর বলে ধারণা করা যায়।
বিশ্ব ইতিহাসে এই দুই আর্জেন্টাইনের সাথে আরেকটা নাম অবধারিতভাবে আসবে। আর্জেন্টাইনদের চির প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের পেলে। সেই ১৯৬২ সালে বিশ্বকাপ জিতে পেলে টানা দুই আসরে জয়ী দলে থাকার গৌরব অর্জন করেন। আর ১৯৭০ সালে তৃতীয়বারে মতো জিতে নিজ দেশের জন্য আজীবনের মতো অর্জন করেন জুলে রিমে ট্রফি।
ফলে, এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থকেরা তো বটেই, গোটা দুনিয়ার ফুটবল সমর্থকদের আগ্রহ থাকবে এই প্রশ্ন নিয়ে যে, আর্জেন্টিনা কি পারবে টানা দুইটা বিশ্বকাপ জিততে?
ইতিহাসেই এই ঘটনা মাত্র দুইবার ঘটেছিলো। পেলের ব্রাজিল আর সেই ৩০ এর দশকে ইতালি তা করতে পেরেছিলো। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আর তৃতীয় আসর জেতা ইতালির কোচ ছিলেন ভিত্তোরিও পোজো। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সৈনিক হিসেবে অংশগ্রহণ করা দুর্দান্ত ট্যাকটিশিয়ান বিশ্বকাপ ইতিহাসের একমাত্র কোচ যিনি টানা দুইবার বিশ্বকাপ জিতেছেন।
মেসির মতোই আরেক লিওনেল, মেসির সাথে একসাথে ২০০৬ বিশ্বকাপ খেলা স্কালোনির সামনেও হাতছানি দিচ্ছে পোজোর রেকর্ডে ভাগ বসানোর।
ছবির উৎস, Reuters
আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা উন্মুখ হয়ে থাকবেন ২০২২ সালে দলকে বিশ্বকাপ জেতানো এই ট্যাকটিশিয়ানের আরেকটা বিশ্বজয়ের জন্য। অবশ্য ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমও চেষ্টা করবেন ২০১৮ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে পেজোর পাশে বসার।
স্কালোনির দলের কাছে ফাইনালে হেরেই স্বপ্নভঙ্গ হয় দেশমের, যিনি ১৯৯৮ সালে অধিনায়ক হিসেবে দেশের জন্য বিশ্বকাপ জিতেছিলেন।
বিশ্ব ইতিহাসের মতোই ফুটবলেও ইতিহাস বারবার ফিরে আসে। এমনকি হতে পারে যে, ১৯৮৬ আর ১৯৯০ সালে যেমন আর্জেন্টিনা আর পশ্চিম জার্মানিই ফাইনাল খেলেছিল, এবারও আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্সেরই টানা দুইটা ফাইনাল হলে?
অথচ, ফ্রান্স ফাইনালে উঠার আগে এই শতকটা বিশ্বকাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ানদের জন্য ছিলো বিভীষিকা।
এই শতকের প্রথম বিশ্বকাপ হয় ২০০২ সালে, আর সেবারের জয়ী ব্রাজিল তাও পরেরবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে, কিন্তু ২০০৬, ২০১০, ২০১৪ সালের চ্যাম্পিয়ান তথা ইতালি, স্পেন এবং জার্মানি ঠিক পরের আসরগুলোতে প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়ে।
অনেকে এর নাম দেন বিশ্বকাপ জয়ের অভিশাপ। ফ্রান্স অবশ্য তা কাটিয়ে দিয়েছে।
তবে, সেসব আসরে জয়ী সবগুলো দলই ছিলো ইউরোপের। এতবার টানা একই মহাদেশ থেকে জেতার ইতিহাস আগে ছিলো না।
এর ফলে, এই শতাব্দীর শুরুতে ল্যাটিন আমেরিকার চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও এখন ইউরোপের শিরোপা ১২টি, আর গতবার আর্জেন্টিনা জেতায় ল্যাটিন দেশগুলোর বিশ্বকাপের সংখ্যা এখন ১০।
ফলে, এই ব্যাপারটা নিয়েও আগ্রহ থাকবে যে, আর্জেন্টিনা কি এই ব্যবধান আরো কমিয়ে আনতে পারবে?
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে একবারই বিশ্বকাপ হয় আর ১৯৯৪ সালের আসরে জেতে আরেক ল্যাটিন দল ব্রাজিল। এবার অবশ্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, একই সাথে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডা ও মেক্সিকো।
কানাডার জন্য প্রথম হলেও এর আগে দুইবার বিশ্বকাপ আয়োজন করে মেক্সিকো। আর সেই দুবার অর্থাৎ ১৯৭০ আর ১৯৮৬ সালে যথাক্রমে জেতেন পেলের ব্রাজিল আর মারাদোনার আর্জেন্টিনা। সেই ধারা বজায় রেখে এবার কি তবে মেসি?
এত এত ইতিহাসের হিসাব মিলিয়ে মেসি সমর্থকেরা নিশ্চিতভাবেই আশায় থাকবেন আরো একবার বিশ্বজয়ের। প্রশ্ন হচ্ছে, আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা আসলে কতটা?
ছবির উৎস, Reuters
জুনের ১৬ তারিখ (বাংলাদেশ সময় জুন ১৭) মেসি যখন আলজেরিয়ার বিপক্ষে কানসাসের এরোহেড স্টেডিয়ামে খেলতে নামবেন, তখন তিনি ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার রেকর্ড করবেন।
যদিও, এর কয়েক ঘণ্টা পর একই রেকর্ডে ভাগ বসাতে পারেন পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
তবে, গতবারের আসরে ফাইনাল খেলার মাধ্যমে ইতোমধ্যেই সর্বোচ্চ ২৬টা বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার একক রেকর্ড করে ফেলেছেন মেসি। মেসি পেছনে ফেলেছেন দুই জার্মান লোথার ম্যাথিউস (২৫ ম্যাচ) এবং মিরোস্লাভ ক্লোসা (২৪ ম্যাচ)। এই বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত রোনালদো খেলেছেন ২২টি বিশ্বকাপ ম্যাচ।
মেসির এই রেকর্ড বেড়ে যাবে গ্রুপ জিতে আর্জেন্টিনার পরের দুইটি খেলায়। জুনের ২২ তারিখ তাঁরা খেলতে নামবেন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে, আর্লিংটনের এটি এন্ডটি স্টেডিয়ামে এবং তার পাঁচদিন পর একই স্টেডিয়ামে এশিয়ার দেশ জর্ডানের বিপক্ষে।
শক্তির বিচারে বলতে হবে যে, আর্জেন্টিনার জন্য গ্রুপটি যথেষ্টই সহজ। অস্ট্রিয়া দলে ডেভিড আলাবা, মাইকেল সাবিটজারের মতো তারকা এবং জার্মান বুন্দেসলীগায় খেলা একঝাঁক খেলোয়াড় আছেন।
তবে, একসময় ফুটবলের পরাশক্তি হলেও ইউরোপের দেশটি ২৮ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে। অন্যদিকে পাঁচবার বিশ্বকাপ খেলা আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়াও ধারে ও ভারে আর্জেন্টিনার থেকে অনেক পিছনে।
সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ে অনুযায়ী দেশটির অবস্থান ২৮ যেখানে আর্জেন্টিনার অবস্থান তিন এবং অস্ট্রিয়ার ২৪। সেই অনুসারে, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া জর্ডান গ্রুপের সবচেয়ে দুর্বল দল, যাদের র্যাংকিং ৬৩।
যদি আর্জেন্টিনা গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করে, তবে তাঁদের দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা পড়বে গ্রুপ এইচ এর রানার-আপ দলের বিপক্ষে। স্পেন, উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে এবং সৌদি আরব নিয়ে গড়া সেই গ্রুপের সম্ভাব্য রানার-আপ ল্যাটিন আমেরিকার আরেক দেশ উরুগুয়ে।
সেক্ষেত্রে, আর্জেন্টিনার বিখ্যাত কোচ মার্সেলো বিয়েলসার অধীনে খেলা দলটির বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে বলে ধারণা করা যায়।
সেই বাধা অতিক্রম করতে পারলে এবং নিজেদের গ্রুপে বেলজিয়াম চ্যাম্পিয়ান হলে শেষ ১৬তে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হবে ইরান, নিউজিল্যান্ড, মিশর, অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে, তুরস্ক কিংবা স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে থেকে একটি দল।
ছবির উৎস, Edu Andrade/LatinContent via Getty Images
সেক্ষেত্রে এই রাউন্ডটি আর্জেন্টিনার জন্য সহজ হবার কথা। সেমিফাইনালে ব্রাজিল বা ইংল্যান্ডের কোনো একটির মুখোমুখি হবার সম্ভাবনা।
তবে, স্বপ্নের ফাইনালে উঠার সমীকরণ একদম পালটে যেতে পারে যদি গ্রুপ পর্যায়ে মেসির দল শীর্ষস্থান না পায়। সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় রাউন্ডেই স্পেনের মুখোমুখি হতে পারে।
পরের রাউন্ডগুলোও পরাশক্তিগুলোর বিপক্ষে খেলতে হতে পারে, যার ফলে মেসির জন্য বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার রেকর্ড ৩০-এর বেশী নিয়ে যাওয়াটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তবে, কেবল রেকর্ডের জন্যই না, জয়ের জন্যই মেসি প্রস্তুতি সারছেন অনেকদিন ধরেই। গত বিশ্বকাপের কয়েক মাস পরেই তিনি যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) দল ইন্টার মিয়ামিতে। আর প্রস্তুতিটা যে তিনি ভালোই নিচ্ছেন, তাঁর প্রমাণ হচ্ছে, মাত্র ৬৪ ম্যাচেই ১০০ গোলে ভূমিকা রেখে (গোল/অ্যাসিস্ট) তিনি এমএলএসের ইতিহাসে দ্রুততম গোল কন্ট্রিবিউশনের রেকর্ড করেছেন।
অবশ্য, কেউ কেউ বলতে পারেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কন্ডিশনের সাথে দারুণ পরিচিত হয়ে গেলেও এমএলএস তো আর ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর সমমানের নয়। ইউরোপের সেরা লিগগুলোতে প্রতি সপ্তাহে খেলার যে চ্যালেঞ্জ, তা এমএলএসে নেই।
নিজেদের গোলবার আগলানোর কথা যদি বলা হয়, সে জায়গায় আর্জেন্টাইনরা নিশ্চিত থাকতে পারে ‘দিবু’ থাকলে। এমিলিয়ানো মার্টিনেজ বা দিবু এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা গোলরক্ষকদের একজন।
প্রতিটি আর্জেন্টাইন সমর্থক আজীবন মনে রাখবেন গত বিশ্বকাপের ফাইনালে তাঁর অবদানের কথা। টাইব্রেকারের নায়ক তো তিনি ছিলেনই, তবে অতিরিক্ত সময়ের প্রায় শেষ দিকে ওয়ান বাই ওয়ান পজিশনে ফ্রান্সের কোলা মুনির শট তিনি অমানবিক দক্ষতায় ঠেকিয়ে না দিলে সেখানেই আর্জেন্টিনার স্বপ্ন শেষ হয়ে যেত।
এমনকি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি পেনাল্টি না ঠেকাতে পারলে হয়ত সেমিফাইনালেই উঠতে পারতো না তাঁর দল। বড় মঞ্চে, সবচেয়ে জরুরি মুহূর্তে মাথা ঠান্ডা রাখতে পারা এই গোলরক্ষক অতি সম্প্রতি নিজের ক্লাব এস্টন ভিলাকে ইউরোপা লীগ জিতিয়েছেন। আর্জেন্টাইনরা আশা করতেই পারেন যে তাঁর শিরোপা জয়ের যাত্রা অব্যাহত থাকবে।
মার্টিনেজের সামনে রক্ষণের দেয়াল গড়ার দায়িত্ব পড়ার কথা ক্রিস্তিয়ান রোমেরো আর নিকোলাস ওতামেন্দির। দক্ষতার পাশাপাশি দুইজনেরই আছে বিপুল অভিজ্ঞতা। তবে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ কাফ ইনজুরিতে ভুগছেন। যদি তিনি পুরোপুরি ফিট না হন, তাহলে রক্ষণের গভীরতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ছবির উৎস, Catherine Ivill/Getty Images
এথলেটিকো মাদ্রিদের নাহুয়েল মোলিনা ডান ফুলব্যাকে দারুণ ফর্মে আছেন, ক্লাবের হয়ে এই মৌসুমে দারুণ কিছু গোলও করেছেন। অন্যদিকে, বামদিকে তাগলিয়াফিকো নির্ভরযোগ্য, অবশ্য দ্রুতগতির প্রতিপক্ষ পেলে চাপে পড়তে পারেন।
আর্জেন্টিনার মধ্যমাঠটা অবশ্য খুবই শক্তিশালী। এনজো ফার্নান্দেজ এখন শুধু একজন মিডফিল্ডার নন, তিনি একটি অর্কেস্ট্রার পরিচালক। চেলসিতে তার পরিপক্বতা চোখে পড়ার মতো। কখন বল ধরে রাখতে হবে, কখন দ্রুত সামনে খেলতে সেসব বোঝাপড়া দেখলে মনে হয় না তাঁর বয়স মাত্র ২৫।
চলতি মৌসুমটা বেশ খারাপ গেলেও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার লিভারপুলে সপ্তাহের পর সপ্তাহ বড় ম্যাচের চাপ সামলে আসছেন, গতবার বিশ্বকাপ জয়ের পর ক্লাবের হয়েও লীগ জিতেছেন। সেই অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনার জন্য বড় সম্পদ হতে পারে।
রড্রিগো ডি পল হয়ত এনজো বা ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো অত মসৃণ নন, তবে তাঁর গুরুত্ব অন্যত্র। সমর্থকেরা মজা করে বলেন, তিনি মেসির বডিগার্ড। ডি পল মাঠে থাকলে মেসি চিন্তাহীনভাবে নিজের সেরাটা দিতে পারেন।
মাত্র ১৮ বছর বয়সি ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুওনো রিয়াল মাদ্রিদে সই করে সারা ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন। আরেক মিডফিল্ডার, এথলেটিকো মাদ্রিদের থিয়াগো আলমাদাকে অনেকে এই বিশ্বকাপের সারপ্রাইজ প্যাকেজ হিসেবে দেখছেন।
আক্রমণ ভাগের খেলোয়াড় লাউতারো মার্টিনেজ ইতালিয় লিগে ১৭ গোল দিয়ে ইন্টার মিলানকে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। বক্সের ভেতরে তার ফিনিশিং, ঠান্ডা, সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকার ক্ষমতা অসাধারণ। মেসির সাথে তার বোঝাপড়া দেখলে মনে হয় রাগ সংগীতের দুই ওস্তাদ সুরলহরী বাজাচ্ছেন।
জুলিয়ান আলভারেজ একটু আলাদা ধরনের ফরোয়ার্ড। তিনি গোল করেন, কিন্তু শুধু গোলের জন্য মাঠে থাকেন না। প্রেস করেন, স্পেস তৈরি করেন, মাঝমাঠ ও আক্রমণের সেতু হন। এই ১৬ বছর বয়সি খেলোয়াড়টি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে এই মৌসুমে নজরকাড়া পারফরম্যান্স দিয়েছেন।
আর এইসব খেলোয়াড়দের এক সুতায় বাঁধার দায়িত্ব স্কালোনির। তিনি ২০১৮ সালে অস্থায়ী কোচ হিসেবে যখন দায়িত্ব পান, তখন কেউ ভাবেনি তিনি আর্জেন্টিনাকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান করবেন। তিনি খেলোয়াড় হিসেবে মাঝারি মানের ছিলেন, কোচিং অভিজ্ঞতাও ছিল কম। কিন্তু আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পুরো কৃতিত্ব পাবেন তিনি।
ছবির উৎস, Robert Cianflone/Getty Images)
কাতারে সৌদি আরবের কাছে গ্রুপ ম্যাচে হেরে গিয়েও পুরো দলকে একজোট রেখে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার যে যাত্রা, তা অবশ্য কেবল কৌশল দিয়ে হয়নি, তা প্রমাণ করেছিল স্কালোনি এবং তাঁর খেলোয়াড়দের পরস্পরের উপর অসীম আস্থার।
স্কালোনি এখনও দল চূড়ান্ত করেননি। তবে, যেসব খেলোয়াড়ের কথা বলা হলো, এরাই দলের নিউক্লিয়াস। এদের সবাই স্কোয়াডে থাকবেন তা প্রায় নিশ্চিত। এর বাইরেও কেউ কেউ এই বিশ্বকাপের সুপারস্টার হয়ে উঠতে পারেন।
রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা স্কালোনির এই দলটার ক্ষমতা ও সম্ভাবনা আছে শিরোপা ধরে রাখার।
অবশ্য, প্রতিশোধ নিতে মুখিয়ে থাকবেন গত বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাট্রিক করা এমবাপ্পে ও তাঁর দল ফ্রান্স। স্পেনের রয়েছে একঝাঁক দুর্দান্ত খেলোয়াড়। ব্রাজিল সর্বস্ব দিয়ে চাইবে ২৪ বছরের গেরো কাটাতে। দুনিয়ার সবচেয়ে দামি লিগের দেশ ইংল্যান্ড কিংবা রোনালদোর পর্তুগালও স্বপ্নের বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের নিংড়ে দেবে।
তবে, অভিজ্ঞতা, কৌশল, তারুণ্য, ঐক্যর সমাহার ঘটানো আর্জেন্টিনা ইতিহাস গড়ে ফেলবে এই নিয়ে সমর্থকেরা আশায় বুক বাঁধতেই পারে। মেসির শেষটা রঙিন হোক, এই প্রত্যাশা করতেই পারে নিরপেক্ষ সমর্থকেরাও।
