ধর্মান্তরণ এবং এক ধর্মের নাগরিকের অন্য ধর্মের নাগরিককে জমি বিক্রির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আনতে আইন করার কথা ফের জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আরও দুটো কাজ বাকি। ধর্মান্তরণ এবং জমি কেনাবেচায় বিধিনিষেধ সম্পর্কিত বিল আনব।’’
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকর করার বিষয়েও এ দিন ফের সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ইউসিসি সংক্রান্ত খসড়া বিল ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। তা কার্যকর করার আগে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের কমিটি সেই খসড়া পর্যালোচনা করছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘আমরা কিছু দিনের মধ্যেই ইউসিসি আনতে চলেছি।’’
– বিজ্ঞাপন –
মঙ্গলবার পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠকে যোগ দিতে বাঁকুড়ায় গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক বৈঠকের পর পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে একাধিক বরাদ্দের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি ধর্মান্তরণ রুখতে এবং জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করতে নতুন আইন আনার পরিকল্পনার কথাও জানান।
ধর্মান্তরণ প্রসঙ্গে শুভেন্দুর অভিযোগ, ধর্মস্থান প্রতিষ্ঠার নামে বিদেশ থেকে অর্থ আসছে এবং সেই অর্থ ব্যবহার করে ধর্মান্তরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, আর্থিক ভাবে দুর্বল মানুষের সুযোগ নিয়ে ধর্ম পরিবর্তনের যে প্রবণতা চলছে, তা বন্ধ করতে হবে। সেই উদ্দেশ্যেই নতুন আইন আনার কথা জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা সীমান্তে জমি দিয়েছি। ওবিসির অবৈধ তালিকা বাতিল করেছি। গোমাতার সম্মান করেছি। মহরমে তলোয়ার নিয়ে বার হতে দিইনি। কিছু দিনের মধ্যে ইউসিসি— ‘এক দেশ, এক মুখ্যমন্ত্রী, এক আইন’ আসবে। তার পরে আমাকে আরও দু’টি কাজ করতে হবে।’’
এই দুই কাজের মধ্যে প্রথমটি ধর্মান্তরণ আটকানো এবং দ্বিতীয়টি জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, জোর করে বা প্রতারণার মাধ্যমে ধর্মান্তরণের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনেই বিভিন্ন আইনি ব্যবস্থার সংস্থান রয়েছে। তবে বিজেপি-শাসিত একাধিক রাজ্যে ধর্মান্তরণ নিয়ে আরও কঠোর আইন চালু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, মহারাষ্ট্র এবং উত্তরাখণ্ডে ধর্মান্তরণ সংক্রান্ত আইনে বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে। বিশেষ করে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের বিয়ে ও ধর্ম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং আইনি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
এই ধরনের আইনের কয়েকটি বিধান আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়েছে। অন্যদিকে অসমেও ইউসিসির আওতায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের বিয়ের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ সংক্রান্ত বিধান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও কয়েকটি বিজেপি-শাসিত রাজ্যে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সরকারি অনুমতি বা বিধিনিষেধের ব্যবস্থা রয়েছে। এবার পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের আইন আনার ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ফলে ইউসিসির পাশাপাশি ধর্মান্তরণ এবং আন্তঃধর্মীয় জমি কেনাবেচা—এই দুই বিষয় আগামী দিনে রাজ্য সরকারের আইন প্রণয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
