কমবয়সি ভারতীয়দের মধ্যে অধিকাংশই প্রিডায়বেটিক। অর্থাৎ ডায়াবেটিস বা মধুমেহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন। অ্যাপলো হাসপাতালের করা দেশ জুড়ে চালানো এক সমীক্ষা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০-৩০ বছর বয়সি ভারতের ২০% যুবক-যুবতী প্রিডায়বেটিক অর্থাৎ তাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। ভবিষ্যতে তাঁদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি পরিমাণে রয়েছে।
পাশাপাশি, ৭০% কমবয়সি ভারতীয় যুবক-যুবতী ভিটামিন ডি’র অভাবে ভুগছেন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো আর হাড় মজবুত করতে ভিটামিন ডি’র প্রয়োজন বেশি।
২০২৫ সালে ৩০ লাখ যুবক, যুবতীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আপাত সুস্থ লাগলেও ৩০ বছরের কম বয়সি দুই-তৃতীয়াংশ ভারতীয়র শরীর নড়বড়ে, ভারসাম্যর অভাব রয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে হার্টের অসুখ এমনকি পড়ে গিয়ে আঘাত লাগার ঝুঁকি বাড়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ১৭-২৫ বছর বয়সি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের মধ্যে প্রতি ৩ জনের মধ্যে ২ জনের একজন কোনো না কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে। ৩০-৪০ বছরের মধ্যে ৫০% কমবয়সি ভারতীয় প্রিডায়বেটিক অথবা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ৮০% কমবয়সি ভারতীয় স্থুলতার সমস্যায় ভুগছেন। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এর জন্য দায়ী। ৪০ ঊর্ধ্ব অধিকাংশ ভারতীয় মহিলা কোনো রকম উপসর্গ ছাড়া ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত। মহিলাদের মধ্যে রক্তাল্পতা ও স্থুলতার সমস্যা হুহু করে বাড়ছে।
ভারতে ৩০ অনূর্ধ্ব কমবয়সিদের মধ্যে নন কমিউনিকেবল ডিজিজ বা যে রোগ কখনো সারে না এমন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। প্রতি ৩ জনের মধ্যে ২ জন নন কমিউনিকেবল ডিজিজে আক্রান্ত। প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৮ জন স্থুলতার সমস্যায় ভুগছেন। ৩০ বছরের অনূর্ধ্ব কমবয়সিদের মধ্যে ২৮% এর রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চাইতে অনেক বেশি। স্থুলকায় কমবয়সিদের মধ্যে রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা অতিরিক্ত বেশি। ৫০% কমবয়সি ভারতীয় ভিটামিন বি১২ এর অভাবে ভুগছেন।
