গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ম্যাচে নাটকীয়তা ছড়ায় দ্বিতীয়ার্ধে। প্রথমে ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে গেলেও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড গড়া গোল পর্তুগালকে সমতায় ফেরায়। পরে যোগ করা সময়ে গনসালো রামোসের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। তবে নাটকীয়তার তখনও বাকি। যোগ করা ১০ মিনিট পেরিয়ে, ১৩ মিনিটে পর্তুগালের জালে বল পাঠাল ক্রোয়েশিয়া, কিন্তু তাদের উদযাপন থেমে যায় ভিএআরে গোল বাতিল হলে। তাতে শেষপর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রবের্তো মার্টিনেজের দল।

টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে শুক্রবার ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ২-১ গোলে জিতেছে পর্তুগাল। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে জালের দেখা পেয়েছেন গনসালো রামোস। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ইভান পেরিসিচ।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার উপলক্ষ গোল করে রাঙালেন রোনালদো। সেই সঙ্গে পিছিয়ে পড়া দলকে ফেরালেন পথে। এদিন পর্তুগাল অধিনায়কের বয়স ৪১ বছর ১৪৭ দিন। তার চেয়ে বেশি বয়সে ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে আর কেউ খেলেনি।

ম্যাচের আগে ছিল আবেগঘন এক মুহূর্ত। পর্তুগাল ও লিভারপুলের সাবেক ফরোয়ার্ড ডিয়াগো জোতার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংগীতের সময় স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় তার ছবি প্রদর্শন করা হয়। এক বছর আগে আজকের দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো এই ফুটবলারের স্মৃতিকে সামনে রেখেই নকআউট ম্যাচে মাঠে নামে পর্তুগাল।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে পর্তুগাল। চতুর্থ মিনিটেই রাফায়েল লিওয়ের দুর্দান্ত দৌড় থেকে তৈরি হয় বিপজ্জনক সুযোগ। সেই আক্রমণে পরপর দুটি শট নিয়েছিলেন ব্রুনো ফের্নান্দেজ। তবে দুবারই অসাধারণ সেভ করে পর্তুগালকে হতাশ করেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডোমিনিক লিভাকোভিচ।

প্রথমার্ধজুড়ে ক্রোয়েশিয়ার তুলনায় বেশি দাপট দেখালেও ফিনিশিংয়ের অভাবে ভুগেছে পর্তুগাল। অন্যদিকে রক্ষণে শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষকে ঠেকিয়ে রাখে ক্রোয়েশিয়া।

বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৩ মিনিটে দ্রুত থ্রো-ইন থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে জোসিফ স্তানিসিচের কাছ থেকে বল পেয়ে দারুণ শটে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন ইভান পেরিসিচ।

পিছিয়ে পড়ার পর মরিয়া হয়ে আক্রমণে নামে পর্তুগাল। ৬০ মিনিটে বল জালে পাঠিয়েও অফসাইডের কারণে গোলবঞ্চিত হন রোনালদো। তবে আট মিনিট পর পেনাল্টি থেকে স্বভাবসুলভ ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে দলকে সমতায় ফেরান পর্তুগিজ অধিনায়ক। এটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে রোনালদোর ক্যারিয়ারের প্রথম গোল এবং চলতি আসরে তার তৃতীয় গোল।

এরপর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। ৭৫ মিনিটে মাতেও কোভাচিচের দূরপাল্লার জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলেও গোলের চেষ্টা করেছিলেন তিনি, কিন্তু দুর্দান্ত ডাইভ দিয়ে নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দেন পর্তুগালের গোলরক্ষক ডিয়োগো কস্তা।

৮১ মিনিটে রোনালদোকে তুলে নেন কোচ মার্টিনেজ। তার জায়গায় নামেন রুবেন নেভেস। মাঠ ছাড়ার সময় কিছুটা হতাশই দেখা যায় পর্তুগিজ অধিনায়ককে। তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে। বাঁ প্রান্ত থেকে রাফায়েল লিওর নিখুঁত ক্রসে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে লাফিয়ে উঠে হেডে বল জালে পাঠান গনসালো রামোস। সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।

শেষ মুহূর্তে হাল ছাড়েনি ক্রোয়েশিয়া। অতিরিক্ত সময়ে তারা একবার বল জালেও পাঠিয়েছিল। কিন্তু ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেয়ায় গোলটি বাতিল হয়। ফলে নাটকীয় এই লড়াইয়ে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় পর্তুগাল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *