কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া সংক্রান্ত আপিল শুনানির জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালগুলিতে মামলার জট ক্রমশ উদ্বেগজনক আকার নিচ্ছে। ট্রাইব্যুনালগুলি চালু হওয়ার ১০০ দিনেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রায় ৩৩ লক্ষ আপিলের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র প্রায় ৩০ হাজার মামলা, যা মোট মামলার এক শতাংশেরও কম।

বর্তমান হারে মামলা নিষ্পত্তির কাজ চলতে থাকলে, ১৯টি ট্রাইব্যুনালের পক্ষে সমস্ত আপিলের নিষ্পত্তি করতে ২৫ বছরেরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা।

– বিজ্ঞাপন –

এর মধ্যেই ট্রাইব্যুনালগুলির কাজকর্মে ধাক্কা দিয়েছে একাধিক পদত্যাগের ঘটনা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার আপিল সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বে থাকা কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিত বাগ স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে বুধবার পদত্যাগ করেছেন। এর আগে, কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার আপিল শুনানির দায়িত্বপ্রাপ্ত কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমও গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর স্বাস্থ্যজনিত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। সূত্রের খবর, বিহারের এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিও সম্প্রতি দায়িত্ব ছেড়েছেন।

অন্যদিকে, রাজ্য সরকার SIR ট্রাইব্যুনালের দুই প্রধান—অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু ও সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়কে যথাক্রমে দুর্নীতি এবং মহিলা নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য গঠিত কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করেছে। যদিও তাঁরা এখনও নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেননি এবং আপাতত SIR ট্রাইব্যুনালের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে গঠিত এই ১৯টি ট্রাইব্যুনাল ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নতুন নাম অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত আপিলের শুনানির জন্য তৈরি করা হয়েছিল। গত ২০ মার্চ থেকে ট্রাইব্যুনালগুলির কার্যক্রম শুরু হয়।

বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার বিচার বিভাগীয় পর্যায়ের যাচাইয়ে মোট প্রায় ২৭ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই বিপুল সংখ্যক আপিল জমা পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য, ট্রাইব্যুনালগুলি আদালতের মতোই নথি যাচাই, শুনানি এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়। তবে আদালতের মতো পর্যাপ্ত প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো না থাকায় এত বিপুল সংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিশেষত, অনলাইন নোটিস জারি এবং মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের কোনও কার্যকর ডিজিটাল ব্যবস্থা না থাকায় প্রক্রিয়া আরও ধীর হয়ে পড়েছে। বহু ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নোটিস পাঠাতে হচ্ছে।

এছাড়া, যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁদের আপিলের নিষ্পত্তি আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। কারণ, নির্বাচন কমিশন ওই সব মামলার নথি যাচাইয়ের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠিয়েছে। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালগুলি সেই মামলাগুলিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।

বাংলার SIR সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছিল, কোনও ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আইনগত শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সন্দেহ থাকলে, বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো বাধ্যতামূলক।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *