তিলজলা-তপসিয়া এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙাকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের পর প্রশাসনিক মহলে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পরিবার ও বাসিন্দাদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার আলিপুরে বরো-৯ এলাকার আধিকারিকদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকেই বেআইনি নির্মাণ ভাঙার ক্ষেত্রে পুরসভার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

সূত্রের খবর, তিলজলা-তপসিয়া এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার আগে যে নোটিস জারি করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ, বাড়ি খালি করার জন্য খুব কম সময় দেওয়া হয়েছিল এবং তার পরেই ভাঙার কাজ শুরু করা হয়। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ডিজি উজ্জ্বল সরকারের কাছেও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এরই মধ্যে কলকাতা হাইকোর্ট ওই ভাঙার নোটিসের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও নির্মাণ বেআইনি হলেও তা ভাঙার আগে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট পক্ষকে যথাযথ নোটিস দেওয়া, তাদের বক্তব্য শোনার সুযোগ রাখা এবং আইন অনুযায়ী পর্যাপ্ত সময় দেওয়া ছাড়া প্রশাসন একতরফা পদক্ষেপ করতে পারে না।

হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণের পর মুখ্যমন্ত্রীও প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে সেই পদক্ষেপ অবশ্যই আইন মেনে এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে করতে হবে।

বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কোনও পরিবারকে আকস্মিকভাবে উচ্ছেদের মুখে ফেলা বা পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে বাড়ি ভাঙার মতো পরিস্থিতি এড়ানো প্রয়োজন। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনও ক্ষেত্রেই বেআইনি নির্মাণকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নজরদারি বাড়ানো, নিয়মিত পরিদর্শন এবং সময়মতো নোটিস জারির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই নির্দেশ শুধু ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য নয়, সমগ্র কলকাতা শহরের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর আগামী দিনে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে আরও সুসংহত, স্বচ্ছ এবং আইনসম্মত পদক্ষেপ দেখা যেতে পারে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *