ছবির উৎস, Arfatul Islam Naim
ডাকসু সংগ্রহশালায়
পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের
নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক
ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ
দফতরের উপ -পরিচালক ফররুখ মাহমুদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়
কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে উল্লেখ করে এই কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে, দুপুরে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবিটি ছিঁড়ে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের সাবেক একজন শিক্ষার্থী।
এতে বলা হয়েছে, “ডাকসু
সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন
ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের
দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক
এমন ব্যক্তিদের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য
নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর
প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
একইসঙ্গে, ডাকসু যেভাবে
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করেছে সেটি আইনানুযায়ী শাস্তিমূলক অপরাধ বলেও উল্লেখ
করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “ডাকসুর
পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য অনুমোদন ছাড়া ওয়েবসাইট চালু
করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের
নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিক্ষক মূল্যায়ন
বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। এ ক্ষেত্রে
কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা ছাত্র সংসদ
নিজেদের উদ্যোগে পৃথক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করতে পারে না। একই সঙ্গে এই ওয়েবসাইট
চালু করে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্যও বাইরে আনা হয়েছে। যা আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক
অপরাধ।”
ঢাবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে টিচিং ইভালুয়েশনের জন্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে এবং সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ
পর্যায়ে অনুমোদিত হয়েছে। যা বাস্তবায়নের পথে।
“ফলে অনুমোদিত নীতিমালার
বাইরে গিয়ে পৃথক কোনো শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়।
এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার সামিল। এমতাবস্থায় ডাকসুর এই ধরনের
কর্মকাণ্ড অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রত্যাশিত
এবং অগ্রহণযোগ্য” বলে জানিয়েছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।
একইসঙ্গে, বিশ্ববিদ্যালয়ে
কোনো ধরনের দ্বৈত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই উল্লেখ করে ঢাবি কর্তৃপক্ষ বলছে, “ডাকসু
একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও তার সব কার্যক্রম
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই পরিচালিত হতে
হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে কোনো সমান্তরাল কাঠামো বা
প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।”
একইসঙ্গে, “বিশ্ববিদ্যালয়ের
প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, বাংলাদেশের
ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের আপস করবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো স্থাপনা
নির্মাণ,
পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে
সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা
হবে” বলে জানিয়েছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।
ছবির উৎস, Arfatul Islam Naim
